“বাংলার পাহারাদার আমিই, ভয় পাবেন না”, নবগ্রামের জনসভা থেকে বিজেপিকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতার

আব্দুল হালিম, নবগ্রাম: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মুর্শিদাবাদের মাটি থেকে গেরুয়া শিবিরকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নবগ্রামের নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দিল্লির রক্তচক্ষুকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই, কারণ বাংলার পাহারাদার হিসেবে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে আছেন।

এদিন নবগ্রামের জনসভায় তৃণমূল প্রার্থী প্রণবচন্দ্র দাসের সমর্থনে আয়োজিত প্রচার মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জঙ্গিপুরের সাংসদ তথা সাংগঠনিক জেলা সভাপতি খলিলুর রহমান, লালগোলার বিদায়ী বিধায়ক মহম্মদ আলি এবং রাজিব হোসেন-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তবে লক্ষ্যণীয়ভাবে সভায় অনুপস্থিত ছিলেন বিদায়ী বিধায়ক কানাইচন্দ্র মণ্ডল

মঞ্চের নিছে দাড়িয়ে রয়েছে জেলা যুব সভাপতি

মঞ্চে যখন হেভিওয়েট নেতারা আসীন, ঠিক তখনই মঞ্চের নিচে এক অদ্ভুত দৃশ্যের অবতারণা হয়। জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি কামাল হোসেন দীর্ঘক্ষণ মঞ্চের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলেন। খলিলুর রহমান বারবার তাঁকে মাইকে মঞ্চে ওঠার অনুরোধ জানালেও কামাল হোসেন বিনম্রভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর যুক্তি ছিল— পায়ে কাদা লেগে আছে”, তাই তিনি মঞ্চে উঠে পরিবেশ নষ্ট করতে চান না। রাজনৈতিক মহলে এই ‘পায়ে কাদা’র অজুহাত নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সাংসদ খলিলুর রহমান জানান “ বিধায়ক অসুস্থ, তিনি চিকিতসার জন্য বাইরে আছেন, আর কামাল কে আমি মঞ্ছে ডেকেছিলাম”

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের প্রধান লক্ষ্য ছিল ভোটার তালিকা নিয়ে কারচুপি এবং বিজেপির ‘বহিরাগত’ ভোটার আমদানির তত্ত্ব। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন ভোটার তালিকা থেকে ঢালাও নাম বাদ দেওয়া নিয়ে তিনি সরব হন। বিশেষত ভবানীপুরে ৪০ হাজার এবং নতুন প্রজন্মের ৬ লক্ষের মধ্যে মাত্র দেড় লক্ষ নাম ওঠার বিষয়টিকে তিনি চক্রান্ত বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “এতো নাম বাদ দেওয়ার পরেও লজ্জা নেই। আবার পদ্মের ছবি আঁকা বস্তা এনে উত্তরপ্রদেশ, বিহারের ৩০ হাজার ভোটারের নাম তুলবে।” বিহার ও মহারাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, বিজেপি ট্রেন ভর্তি করে ভিন রাজ্য থেকে ভোটার এনে ভোট করানোর পরিকল্পনা করছে।

নির্বাচনী জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী নিজের সরকারের করা ১০৫টি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন “সারা বিশ্বে এমন একটি দেশ দেখান যেখানে এত প্রকল্প হয়েছে! নবগ্রামের রাস্তা সংস্কার, বহরমপুরে শ্রমিক ভবন থেকে শুরু করে স্টেডিয়ামের পাঁচিল—সবই আমরা করে দিয়েছি।” এনআরসি (NRC) এবং ডিটেনশন ক্যাম্প প্রসঙ্গে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “ভয় পাবেন না। আমি থাকতে বাংলায় ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না। দিল্লির পুলিশবাবুরা এক মাসের জন্য আসবে, খাওয়া-দাওয়া করবে আর চলে যাবে।”

বিজেপিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করছে তারাই আসল অনুপ্রবেশকারী। দুবাই বা সৌদি আরবে কাজের খোঁজে যাওয়া ভারতীয়দের কথা টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিদেশে যাওয়ার সময় যারা হিন্দু-মুসলমান ভেদাভেদ করে না, তারা দেশে ফিরে কেন বিভাজনের রাজনীতি করছে?

সবশেষে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, প্রথম দিন থেকে তিনি একসাথে লড়াই করার কথা বললেও কোনো রাজনৈতিক দলকে পাশে পাননি। সভা শেষে মুখ্যমন্ত্রী বহরমপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *