হাইকোর্টের নির্দেশে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পেলেন হুমায়ুন কবীর

নিজের খরচেই ‘Y+’ ক্যাটাগরির প্রহরায় প্রাক্তন বিধায়ক

নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ: দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং টানাপোড়েনের পর অবশেষে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তাবলয়ে মুড়ে ফেলা হলো রাজনৈতিক নেতা হুমায়ুন কবীরকে। রাজ্য পুলিশের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তাঁকে ১৩ জন সিআইএসএফ (CISF) দেহরক্ষী সম্বলিত ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বরাদ্দ করেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করে আসছিলেন যে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় তাঁর গাড়ি আটকে হেনস্থা করা হচ্ছে এবং তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের আদলে একটি স্থাপত্যের শিলান্যাস এবং তাঁর নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠনের পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হয়। হুমায়ুন কবীরের দাবি, উত্তরপ্রদেশ, মুম্বই এমনকি কলকাতার কিছু বিজেপি নেতার থেকেও তিনি সরাসরি খুনের হুমকি পাচ্ছেন।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ডঃ শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়। হুমায়ুন কবীর মূলত রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তার ওপর ভরসা না পেয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে নিরাপত্তার আবেদন করার অনুমতি চেয়েছিলেন। আদালত সেই অনুমতি দিলেও একটি বিশেষ শর্ত আরোপ করে। বিচারপতি স্পষ্ট জানান যে, কেন্দ্রীয় সরকার যদি নিরাপত্তা দেয়, তবে সেই নিরাপত্তার যাবতীয় আর্থিক খরচ হুমায়ুন কবীরকেই বহন করতে হবে। প্রথমে তিনি ‘Z+’ (জেড প্লাস) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দাবি করলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করে তাঁকে ‘Y+’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় বাহিনী তার বাড়িতে আসার পর এদিন হুমায়ুন কবীর সংবাদমাধ্যমকে জানান “মহামান্য হাইকোর্টের কাছে আমি আবেদন করেছিলাম কারণ বাবরি মসজিদ করার উদ্যোগ নেওয়ার পর থেকে উত্তরপ্রদেশ ও মুম্বইয়ের মতো জায়গা থেকে আমাকে গদান কেটে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি কলকাতার কিছু বিজেপি নেতাও আমাকে হুমকি দিচ্ছিলেন। জাস্টিস শুভ্রা ঘোষ ম্যাডাম আমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নির্দেশ দেন। সেই মতো আজ থেকে সিআইএসএফ জওয়ানরা আমার সঙ্গে থাকছেন। আমি যেখানেই যাই, এই কেন্দ্রীয় বাহিনী আমার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করবে।”

মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে হুমায়ুন কবীর এক বর্ণময় চরিত্র। নির্বাচনের আগে তাঁর এই কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়া এবং নিজের নতুন দল নিয়ে ময়দানে নামা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একদিকে রাজ্য পুলিশের ওপর অনাস্থা এবং অন্যদিকে ঘটা করে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা গ্রহণ—এই দুই ঘটনা রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *