নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ:
সোমবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক বিশাল জনসভার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’। ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এদিন এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলের পতাকা, ইস্তেহার এবং প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। ৪৯ বিঘা জমির ওপর তৈরি হওয়া ২৩০ ফুটের বিশালাকার মঞ্চ থেকে হুমায়ুন কবীর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অন্তত ৯০টি আসনে জয়লাভ করা।
৫ ফুট উঁচু লোহা ও অ্যালুমিনিয়ামের স্ট্যান্ড দিয়ে তৈরি শক্তিশালী মঞ্চটি ছিল এই সভার অন্যতম আকর্ষণ। হুমায়ুন কবীরের নতুন দলের পতাকায় ঠাঁই পেয়েছে তিনটি রং— হলুদ, সবুজ এবং সাদা। বিধায়কের দাবি, তৃণমূল বা বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এলে তাঁর ‘মসজিদ গড়ার স্বপ্ন’ পূরণ হবে না, তাই ক্ষমতার রাশ নিজের হাতে রাখতে অন্তত ৯০টি আসন জেতা জরুরি।
এদিনের সভার সবচেয়ে বড় চমক ছিল প্রার্থী তালিকা। শুধু দলনেতা নন, তাঁর দলে আরও তিন জন ‘হুমায়ুন কবীর’ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। দলনেতা নিজে লড়বেন দুটি আসন থেকে। অন্যদিকে রানিনগর থেকে বিশিষ্ট চিকিৎসক তথা ২০১৬ সালের প্রাক্তন তৃণমূল প্রার্থী ডাঃ হুমায়ুন কবীর, ভগবানগোলা থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হুমায়ুন কবীর এবং রামপুরহাট থেকে পাথর খাদানের মালিক হুমায়ুন কবীর লড়বেন বলে প্রস্তাব করা হয়েছে। সংগঠনের বিস্তারে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি হিসেবে হাজি ইব্রার হোসেনকে খড়্গপুর গ্রামীণের প্রার্থী করা হয়েছে এবং কলকাতার হাই-প্রোফাইল বালিগঞ্জ কেন্দ্রে নাম ঘোষণা করা হয়েছে নিশা চট্টোপাধ্যায়ের। এছাড়াও মুর্শিদাবাদ (৬৪) আসনে লড়বেন প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রী মনীষা পাণ্ডে, মালদহের বৈষ্ণবনগরে মুস্তারা বিবি, দক্ষিণ দিনাজপুরের ধনিরামে চিকিৎসক ডঃ ওয়েদুল রহমান এবং ইছাপুর কেন্দ্রে পুরনো তৃণমূল লড়াকু সৈনিক সিরাজুল মন্ডল। এই বৈচিত্র্যময় তালিকার মাধ্যমে হুমায়ুন কবীর বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর দল কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থেকে সারা বাংলা জুড়েই লড়তে প্রস্তুত।
মঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ও বামফ্রন্টকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন হুমায়ুন। তিনি বলেন, “সিপিএম ৩৪ বছরে মানুষকে শুধু ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করে ক্যাডার-ভিত্তিক দল চালিয়েছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন সাধারণ মানুষ স্পর্শ করতে পারেন না, তাঁর দল এখন আমলাতান্ত্রিক হয়ে পড়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর দল মানুষের উন্নয়নের জন্যই কাজ করবে।
২০২১ সালের নির্বাচনের আগে নওসাদ সিদ্দিকির আইএসএফ (ISF) যেভাবে একটি শক্তিশালী ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছিল, হুমায়ুন কবীরও সেই পথেই হাঁটতে চাইছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শুধু মুর্শিদাবাদ বা মালদহ নয়, কলকাতা থেকে মেদিনীপুর—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রার্থী দিয়ে তিনি তৃণমূল ও বিজেপি উভয় শিবিরের ভোটব্যাঙ্কই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে চাইছেন।
হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ রাজ্য কমিটি এবং বিস্তারিত ইস্তেহার প্রকাশ করা হবে। দলের প্রতীক হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে ‘টেবিল’ চেয়েছেন, না হলে ‘জোড়া গোলাপ’ পাওয়ার আশা রাখছেন।