কলকাতা, ২৩শে আগস্ট, ২০২৫: দ্রুত বদলে যাওয়া কর্পোরেট দুনিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), অটোমেশন এবং হাইব্রিড কর্মপদ্ধতির প্রভাব দিন দিন আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে BIBS (Bengal Institute of Business Studies) ও NHRDN (National Human Resource Development Network) কলকাতা চ্যাপ্টার যৌথভাবে কলকাতার তাজ বেঙ্গল হোটেলে “HR Leadership Summit 2025″-এর আয়োজন করে।
এই শীর্ষ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রখ্যাত HR নেতা, কর্পোরেট পেশাদার এবং শিল্প বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে HR নেতৃত্বের কৌশল, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা।
সম্মেলনের গুরুত্ব বাড়িয়ে তোলেন পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় পরিবহণ মন্ত্রী শ্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, যিনি বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রখ্যাত HR বিশেষজ্ঞ ও Prabir Jha People Advisory-র প্রতিষ্ঠাতা প্রবীর ঝা-র মূল বক্তৃতার মাধ্যমে। তাঁর বক্তব্যের বিষয় ছিল “HR Space Beyond Tomorrow”। তিনি বলেন, “AI ও অটোমেশন HR-কে কেবল লেনদেনমূলক দায়িত্ব থেকে মুক্ত করে নিয়ে যাচ্ছে কৌশলগত উদ্ভাবন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবিক কর্মসংস্কৃতির চালিকাশক্তি হয়ে ওঠার দিকে।”
প্রথম প্যানেল আলোচনা “Mastering People Leadership in a Hybrid World”-এ বক্তারা তুলে ধরেন, হাইব্রিড কর্মপদ্ধতিতে নেতৃত্বের মূল হাতিয়ার হলো সহানুভূতি, অভিযোজন ক্ষমতা এবং সুদক্ষ যোগাযোগ। দ্বিতীয় প্যানেল “Future Ready or Left Behind: The Urgency of Upskilling in the Age of AI”-তে AI যুগে কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং পুনর্বিকাশের জরুরি প্রয়োজনের ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তাদের মতে, যেসব সংস্থা নিরন্তর শিক্ষা, ডিজিটাল সাক্ষরতা ও আপস্কিলিং-এ বিনিয়োগ করবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।
BIBS-এর চেয়ারম্যান বিদুর কাপুর বলেন, “BIBS-এ আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র একাডেমিক শিক্ষা নয়, বরং বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি দেওয়া। এই HR Leadership Summit সেই প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।”
সম্মেলনের উপসংহারে স্পষ্ট বার্তা উঠে আসে যে, HR-এর ভবিষ্যৎ হবে প্রযুক্তি ও মানব-কেন্দ্রিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে নির্মিত। AI যেমন কর্মক্ষেত্রের কাঠামোকে পাল্টে দিচ্ছে, তেমনি হাইব্রিড মডেল চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে পুরোনো ধ্যানধারণাকে। তাই ভবিষ্যতের HR নেতাদের শুধু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া নয়, বরং পরিবর্তনের স্থপতি হয়ে উঠতে হবে—একটি কর্মীবাহিনী তৈরি করতে হবে যা প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ এবং একইসঙ্গে আবেগগতভাবে দৃঢ়।