নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ | ১০ নভেম্বর, ২০২৫
সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে মানবিক উদ্যোগে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গের ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস এবং দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভাঙনের ফলে হাজার হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার শিলিগুড়ির উত্তরকন্যা প্রশাসনিক ভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের ২২টি জেলার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের হাতে আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দেন।
মুর্শিদাবাদ জেলার ভাঙন এবং প্লাবনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্যও এদিন আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করা হয়। বহরমপুর কালেক্টরেট ক্লাব অডিটোরিয়ামে জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই ভার্চুয়াল কর্মসূচিতে যোগ দেন জেলার জনপ্রতিনিধিরা। উপস্থিত ছিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা শাসক নীতিন সিংহানিয়া, বহরমপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ, জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, কান্দির বিধায়ক ও জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা।

মুর্শিদাবাদে মোট ১১০০টি ভাঙনকবলিত পরিবারকে “বাংলার বাড়ি” প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। যাদের সম্পূর্ণ বাড়ি ভেঙে গেছে, তাঁদের ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে-এদিন প্রথম কিস্তি হিসেবে ৬০,০০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ৭০,০০০ টাকা সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে, যার অর্ধেক অর্থ ইতিমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে।
বহরমপুর তৃণমূল কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান এবং জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার জানিয়েছেন, “৩০ নভেম্বরের মধ্যে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি পাট্টা পাবেন। এই সাহায্য কেবল অর্থনৈতিক নয়, এটি মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক সহানুভূতির প্রতীক।”
অপূর্ব সরকার বলেন, “মুর্শিদাবাদের এক পাশে প্লাবন, অন্য পাশে ভাঙন। এমন অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী নিজে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছেন-এর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
রাজ্যজুড়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষিত আর্থিক সহায়তা কর্মসূচিতে মোট ১৭১.৩২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে ১,৬৬,০৫৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে। এর পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়েছে যাতে পুনরায় কৃষিকাজ শুরু করা যায়। ২০,৭২৪ জন উদ্যান পালককে দেওয়া হয়েছে শীতকালীন সবজির চারা ও প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা। এছাড়া খাদ্য, জল, ত্রিপল, হ্যান্ডলুম ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে ১,৬৫,১৩১ জন মানুষের মধ্যে, যার মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।
রাজ্য সরকারের বক্তব্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন ও জীবিকা স্বাভাবিক করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “যতক্ষণ না শেষ মানুষটিও নিরাপদ হয়, রাজ্য সরকার তাঁর পাশে থাকবে। বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ আমাদের দায়িত্ব।”