ইতিহাস গড়ল ভারত! দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে মহিলা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ‘টিম ইন্ডিয়া’


২০২৫ সালের মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিতে প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো ভারত। নবি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়ে ট্রফি জিতল হারমনপ্রীত কাউরের নেতৃত্বাধীন দল।

নিউজ ফ্রন্ট, মুম্বই, ৩ নভেম্বর

ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল ওডিআই (ODI) বিশ্বকাপ ২০২৫-এর শিরোপা জিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। রবিবার নভি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়ামে আয়োজিত শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে টিম ইন্ডিয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে পরাজিত করে প্রথমবার মহিলা ওয়ানডে বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের নামে করল। দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে ২ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখটি মহিলাদের ক্রিকেটের জন্য এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হলো।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে তোলে ২৯৮ রান। দলের হয়ে ওপেনার শেফালি বর্মা ৮৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন, যা দলের ইনিংসের ভিত গড়ে দেয়। স্মৃতি মন্ধানার ব্যাট থেকে আসে ৬৪ রান, আর অধিনায়ক হারমনপ্রীত কাউর করেন ৪২ রান।

জবাবে দক্ষিণ আফ্রিকা ২৪৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। প্রতিপক্ষের ইনিংস ভেঙে দেন ভারতের স্পিনার দীপ্তি শর্মা। তিনি মাত্র ৩৯ রান খরচায় নেন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। তরুণ পেসার শ্রী চরনীও চাপের মুহূর্তে ১ উইকেট নেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে একাই লড়লেন অধিনায়ক লরা ভোলভোর্ট। তাঁর ৯৮ বলে ১০১ রানের লড়াকু ইনিংস দলকে লড়াইয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত ভারতের বোলারদের সামনে টিকতে পারেননি বাকি ব্যাটাররা।

এই জয়ে ভারতের মেয়েরা এমন এক সাফল্য এনে দিল, যা তুলনা করা হচ্ছে ১৯৮৩ সালে পুরুষ দলের বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখে রবিবার রাতটি যেন ভারতের মহিলা ক্রিকেটের জন্য সেই একই মাইলস্টোন। শেষ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার নাদিন ডি ক্লার্কের ক্যাচটি লুফে নেওয়ার মুহূর্তে ভারতজুড়ে শুরু হয় উদ্‌যাপন। মাঠে গর্জে ওঠে ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর। ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপের কণ্ঠে ধরা পড়ে সেই ঐতিহাসিক উক্তি “This will inspire generations.”

ভারতীয় দলের প্রধান কোচ অমল মুজুমদার, যিনি নিজে কখনও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পাননি, তাঁর নেতৃত্বে এই জয় অনেকটা ব্যক্তিগত স্বপ্নপূরণের মতোই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু একটি ক্রিকেট জয় নয়, বরং সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক। দেশের প্রত্যন্ত প্রান্তের মেয়েদের জন্য এই সাফল্য হবে অনুপ্রেরণার উৎস কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত প্রতিটি কিশোরীর কাছে এই দল প্রমাণ করেছে, মেয়ে মানেই শক্তি, মেয়ে মানেই সামর্থ্য।

২০২৫ সালের ২ নভেম্বর তারিখটি এখন থেকে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা থাকবে। এই জয় শুধু ট্রফি নয়— এটি আত্মবিশ্বাস, গর্ব, আর এক নতুন প্রজন্মের স্বপ্নের জয়।

সংক্ষেপে মূল পরিসংখ্যান:

  • ভারত: ২৯৮/৭ (৫০ ওভারে)
  • দক্ষিণ আফ্রিকা: ২৪৬ অলআউট (৪৬.৩ ওভারে)
  • জয়ের ব্যবধান: ভারত জয়ী ৫২ রানে
  • ম্যাচের সেরা: দীপ্তি শর্মা (৫/৩৯)
  • সবচেয়ে বেশি রান: শেফালি বর্মা (৮৭)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *