৫৪টি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তালিকায় | আইআইটি দিল্লি প্রথমবার বিশ্বের শীর্ষ ২০০-তে
নয়াদিল্লি, ১৯ জুন— কিউএস (Quacquarelli Symonds) বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে ভারত জি-২০ দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত অগ্রগতিকারী দেশ হিসেবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। গত এক দশকে ৩৯০ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে ভারত বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষায় অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে।
কিউএস বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ ভারতের সর্বকালের সেরা উপস্থিতি দেখা গেছে। এবার ৫৪টি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এই তালিকায় স্থান পেয়েছে, যা ২০২৫ সালের ৪৬টি এবং ২০২৪ সালের ৪৫টি থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৪ সালে মাত্র ১১টি ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই তালিকায় ছিল। বর্তমানে ৫ৄটিতে পৌঁছানো মানে এক দশকে পাঁচগুণ বৃদ্ধি, যা ৩৯০ শতাংশ অগ্রগতির সমান।
আইআইটি দিল্লির ঐতিহাসিক সাফল্য
ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) দিল্লি। এই প্রতিষ্ঠানটি যৌথভাবে ১২৩তম অবস্থানে পৌঁছেছে, যা তার এ পর্যন্ত সেরা পারফরমেন্স। আমেরিকার জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির সাথে একই অবস্থানে থেকে আইআইটি দিল্লি প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ ২০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় প্রবেশ করেছে।
এই অর্জনের ফলে ভারত এখন বিশ্বে চতুর্থ সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বকারী দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কেবলমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং চীন ভারতের চেয়ে বেশি বিশ্ববিদ্যালয় এই তালিকায় রয়েছে।
জি-২০ দেশগুলির মধ্যে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে ভারত এখন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল দেশ, যা দেশের শিক্ষানীতি ও সংস্কারের সাফল্যের প্রমাণ।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য উল্লাস প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্ট শেয়ার করে লিখেছেন, “কিউএস বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং ২০২৬-এ রেকর্ড ৫৪টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশ্বের সেরাদের মধ্যে স্থান পেয়ে ভারত নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।”
তিনি আরও বলেছেন, “২০১৪ সালে মাত্র ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বশেষ র্যাঙ্কিংয়ে ৫৪টিতে পৌঁছানো – এই পাঁচগুণ লাফ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের গত দশকের যুগান্তকারী শিক্ষা সংস্কারের সাক্ষ্য বহন করে।”
এনইপি ২০২০-এর প্রভাব
শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০-এর ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, “এনইপি ২০২০ শুধু আমাদের শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে না, বরং এটি বিপ্লব ঘটাচ্ছে।” তিনি আরও বলেছেন, “এটি অপরিসীম গর্বের বিষয় যে ভারত জি-২০ দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শিক্ষাব্যবস্থা এবং কেবলমাত্র আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও চীনের পরে চতুর্থ সর্বাধিক প্রতিনিধিত্বকারী দেশ।” গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিকীকরণে এনইপি’র জোর দেওয়ার ফলে আগামী দিনে আরও বেশি ভারতীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশ্বমানে উৎকর্ষতা অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।
দশকের পরিবর্তন
২০১৪ সাল থেকে ভারতীয় উচ্চশিক্ষায় যে পরিবর্তন এসেছে, তা নিম্নরূপ:
২০১৪: ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়
২০২৪: ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয়
২০২৫: ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয়
২০২৬: ৫৪টি বিশ্ববিদ্যালয়
এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে ভারতীয় উচ্চশিক্ষা ক্রমাগত উন্নতি করছে এবং বিশ্বমানের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে।
এই সাফল্য বিভিন্ন শিক্ষা সংস্কারের ফল। গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অবকাঠামো উন্নতি – এসব ক্ষেত্রে সরকারের ব্যাপক পদক্ষেপের ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। কিউএস র্যাঙ্কিং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং সিস্টেম। এই তালিকায় ভারতের এই অর্জন দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।