নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ:
মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘী থানার অন্তর্গত কাবিলপুরের কয়েলপাড়া এলাকায় পুলিশের গোপন ও সুপরিকল্পিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের দাবি, একটি বাড়িতেই চলছিল হেরোইন তৈরি ও মজুতের কারবার।
গোপন সূত্রে পাওয়া নির্ভরযোগ্য খবরের ভিত্তিতে সাগরদিঘী থানার পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালানোর পর ওই এলাকায় অভিযান চালায়। তল্লাশি অভিযানে কাবিলপুর কয়েলপাড়ার বাসিন্দা রাকিবুল শেখের বাড়ি থেকে মোট ৫ কেজি ২৮৭ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই বাড়ির ছাদ ও ঘরের বিভিন্ন অংশে অত্যন্ত কৌশলে হেরোইন লুকিয়ে রাখা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, রাকিবুল শেখের বাড়িতেই চলছিল হেরোইন তৈরির কাজ। এই কাজে সহযোগিতা করছিলেন রাকিবুলের স্ত্রী মোমিনা বিবি ও হাসিনা খাতুন। পাশাপাশি এই মাদক তৈরির কাজে মূল কারিগরি সহায়তার জন্য লালগোলা থানার বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ নিয়মিত ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
এই অভিযানে রাকিবুল শেখ, তাঁর স্ত্রী মোমিনা বিবি, হাসিনা খাতুন এবং লালগোলার বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ—মোট চারজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনের কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে জঙ্গিপুরের এসডিপিও প্রবীর মণ্ডল জানান, “সাগরদিঘী থানার কাছে খবর আসে কাবিলপুরে একটি বাড়িতে হেরোইন তৈরি করা হচ্ছে। সেই খবরের ভিত্তিতে ওসি সাগরদিঘী তাঁর টিম নিয়ে অভিযান চালান। তল্লাশিতে ৫ কেজি ২৮৭ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা।”
তিনি আরও জানান, এটি একটি সুসংগঠিত মাদকচক্রের কাজ এবং এর পিছনে বড়সড় একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। উদ্ধার হওয়া হেরোইন শুধুমাত্র স্থানীয় বাজারে নয়, আন্তঃরাজ্য পাচারের উদ্দেশ্যেই মজুত করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত চারজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে মাদকচক্রের মূল মাথা, সরবরাহের রুট এবং আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। প্রয়োজনে এই মামলায় আরও গ্রেফতার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এই সফল অভিযানে সাগরদিঘী থানার পুলিশের তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় মাদক কারবারের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। পুলিশের এই সাফল্যে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে বলে মত সাধারণ মানুষের।