কলকাতা, ২৩ সেপ্টেম্বর: গত সোমবার রাতভর এবং মঙ্গলবার ভোর থেকে একটানা প্রবল বর্ষণে কলকাতার জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলমগ্ন শহর কার্যত রুদ্ধ হয়ে পড়েছে, বন্ধ হয়ে গেছে সমস্ত পরিষেবা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ সিইএসসি-র ওপর
শহরের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি সিইএসসি-কে দায়ী করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে ‘নিউজ১৮ বাংলা’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এর দায় সিইএসসি-কে নিতে হবে। এখনই তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে কর্মীদের নামাক।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, সিইএসসি কলকাতায় ব্যবসা করলেও পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের কাজ করছে রাজস্থানে। তিনি সিইএসসি-র কাছে মৃতদের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন।
শহরের অবস্থা
প্রবল বৃষ্টির ফলে শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যেমন— পার্ক সার্কাস, গড়িয়াহাট, বেহালা এবং কলেজ স্ট্রিট হাঁটুজল থেকে কোমরসমান জলে ডুবে যায়। এর ফলে যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বহু স্কুল, যেমন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, তাদের সমস্ত পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। স্কুল কর্তৃপক্ষও অভিভাবকদের প্রয়োজন ছাড়া সন্তানদের স্কুলে না পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছে।
প্রাণহানি ও দুর্যোগ মোকাবিলা
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে: বেনিয়াপুকুরের ফিরোজ আলি খান (৫০), নেতাজি নগরের প্রণতোষ কুণ্ডু (৬২) এবং একবালপুরের মমতাজ বিবি (৭০)। এছাড়া, গড়িয়াহাট এলাকায় একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরও মৃত্যু হয়েছে। আরও দুজন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ তা নিশ্চিত করেনি।
দুর্ভোগ সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সকলে রাস্তায় থাকবেন। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, কলকাতা পুরসভা চেষ্টা করেও জল বের করতে পারছে না। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, পরে গঙ্গায় জোয়ার এলে শহরের একাংশ আবার জলমগ্ন হতে পারে।
পরিবহণ ও মেট্রো পরিষেবা বিপর্যস্ত
বৃষ্টির কারণে শহরের পরিবহণ পরিষেবাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্লু লাইনে (দক্ষিণেশ্বর-শহীদ ক্ষুদিরাম) মেট্রো পরিষেবা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়, বিশেষত মহানায়ক উত্তম কুমার এবং রবীন্দ্র সরোবর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশে জল জমে যাওয়ায়। এছাড়া, হাওড়া এবং কলকাতা স্টেশন থেকে আসা-যাওয়া করা ট্রেনগুলিও প্রভাবিত হয়। চিত্তপুর ইয়ার্ডে জল জমে যাওয়ায় সার্কুলার রেল পরিষেবাও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের আরও কিছু জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।