নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ:
ঝাড়খণ্ড ও বিহারে প্রবল বর্ষণের জেরে দ্রুত বাড়ছে গঙ্গার জলস্তর। ফলে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় গঙ্গা নদী বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গঙ্গার বিপদসীমা ২২.২৫ মিটার হলেও বর্তমানে ‘আপ স্ট্রিমে’ জলস্তর ২৬.৪০ মিটার এবং ‘ডাউন স্ট্রিমে’ ২৩.৬৩ মিটার। এর ফলে ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দিয়ে প্রায় ১৪.৫ লক্ষ কিউসেক হারে জল ছাড়া হচ্ছে।
এই অতিরিক্ত জলপ্রবাহে জেলার সুতি, সামশেরগঞ্জ ও রঘুনাথগঞ্জ ব্লকের নিম্নাঞ্চলে প্লাবন শুরু হয়েছে। সামশেরগঞ্জের লহরপুর ও শিবনগরসহ একাধিক গ্রামে নতুন করে জল ঢুকছে। নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙনও তীব্র হয়েছে।
এদিকে কান্দি, খড়গ্রাম ও ভরতপুর-১ ব্লকে নদীর বাঁধ ভেঙে ও উপচে জল ঢুকেছে। বহরমপুর ব্লকের সাটুই চৌরিগাছা নীচু এলাকায় নদীর বাঁধ উপচে জলমগ্ন হয়েছে চাষের জমি। যার জেরে মুর্শিদাবাদের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে।
জেলা প্রশাসন একাধিক ব্লকে সতর্কতা জারি করেছে এবং গ্রামবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ত্রাণ শিবিরের প্রস্তুতিও চলছে। পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা।
আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, “মৌসুমি বায়ুর কারণে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। এতে নদীর জলস্তর আরও বাড়তে পারে।”
ফরাক্কা অঞ্চলে গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধি এবং পরবর্তী বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রতি বছর মৌসুমি বর্ষার সময় এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটে।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে একইরকম পরিস্থিতিতে ফরাক্কা বাঁধের ১০৯টি গেট খোলা হয়েছিল। তখনও মুর্শিদাবাদসহ পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।