চারদিনের উদ্বেগ শেষ, ধানক্ষেতে মিলল ছোট্ট সোহানার নিথর দেহ! গলায় ফাঁস, প্রশ্ন পুলিশি তৎপরতা নিয়ে

দীর্ঘ চারদিনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সমাপ্তি ঘটল মর্মান্তিক পরিণতির মধ্য দিয়ে। মুর্শিদাবাদের ভরতপুরে নিখোঁজ সাত বছরের শিশুকন্যা সোহানা খাতুনের নিথর দেহ উদ্ধার হলো ধানক্ষেত থেকে। এই নৃশংস ঘটনায় কেঁপে উঠেছে গোটা সৈয়দ কুলুট গ্রাম।

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভরতপুর (মুর্শিদাবাদ): গত চারদিন ধরে যে শিশুর সন্ধান পেতে স্নিপার ডগ থেকে শুরু করে ডুবুরি সব ধরনের কৌশল ব্যবহার করা হলো, সেই ছোট্ট সোহানা খাতুনকে আর জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেল না। শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকা সাত বছরের সোহানার নিথর দেহ আজ সকালে উদ্ধার হলো বাড়ির অদূরেই একটি ধান ক্ষেত থেকে। এটি খুন না অপহরণের পর হত্যা, তা নিয়ে ঘোর রহস্য তৈরি হয়েছে।

মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার সৈয়দ কুলুট গ্রামের বাসিন্দা সোহানা গত শনিবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার খবর পেতেই পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। সোহানার খোঁজে তল্লাশি চালায় স্নিপার ডগ স্কোয়াড, গ্রামের পুকুর ও খালে নামানো হয় ডুবুরি। ড্রোন দিয়েও চলে আকাশপথে নজরদারি। গ্রাম থেকে জঙ্গল, প্রতিটা সন্দেহজনক জায়গা তন্নতন্ন করে খোঁজা হলেও, শিশুটির কোনো হদিস মিলছিল না। গতকালই সোহানার মা থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন।

আজ (মঙ্গলবার) সকালে সৈয়দ কুলুট থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে সৈয়দকুটের দাস পাড়া এলাকায় একটি ধানক্ষেতে শিশুটির নিথর দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। মুহূর্তে খবরটি বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে ভিড় করে হাজারো মানুষ।

উদ্ধার হওয়া দেহাংশের পরিস্থিতি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। শিশুটিকে নৃশংসভাবে গলা টিপে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। দেহ উদ্ধারের সময় দেখা যায়, সোহানার গলায় ফাঁস দেওয়া রয়েছে এবং নির্মমভাবে কাটা ধান চাপা দিয়ে দেহটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

নৃশংস এই ঘটনা ঘিরে সৈয়দ কুলুট ও সৈয়দকুটের দাস পাড়া এই দুই গ্রামে এখন শোকের পাশাপাশি তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। সোহানার মর্মান্তিক পরিণতিতে কারো চোখেই জল থামছে না। সবাই হতবাক হয়ে প্রশ্ন করছেন, কে বা কারা এমন ভয়ঙ্কর ও কাপুরুষোচিত কাণ্ড ঘটাতে পারে?

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ এবং হত্যার আগে কোনো শারীরিক নির্যাতন হয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট হবে।

চারদিন ধরে বিশাল পুলিশি বহরের তল্লাশি, স্নিপার ডগ ও ডুবুরি থাকা সত্ত্বেও নিখোঁজ হওয়ার স্থানের এত কাছাকাছি ধানক্ষেত থেকে কেন দেহ উদ্ধার হলো, তা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *