নিউজ ফ্রন্ট, বেঙ্গালুরু: প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়ার নাতি এবং জনতা দল (সেক্যুলার)-এর বহিষ্কৃত নেতা প্রজ্জ্বল রেভান্নাকে একটি ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনাল বেঙ্গালুরুর একটি বিশেষ আদালত। শুক্রবার তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করার পর, শনিবার এই রায় ঘোষণা করা হয়। এই রায় ভারতের রাজনৈতিক এবং আইনি মহলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
আদালতের রায়ে, প্রাক্তন হাসান সাংসদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রায় ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার এই অর্থের একটি বড় অংশ, ৭ লক্ষ টাকা, নির্যাতিতাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত প্রজ্জ্বল রেভান্না ভেঙে পড়েন এবং কান্নায় লুটিয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
এই মামলাটি একটি ৪৮ বছর বয়সী মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছিল, যিনি রেভান্না পরিবারের খামারবাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। নির্যাতিতার অভিযোগ ছিল, ২০২১ সালে প্রজ্জ্বল তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং সেই ঘটনার ভিডিও তাঁর মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে রাখেন। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে এই যৌন কেলেঙ্কারির ভিডিও প্রকাশ্যে আসে এবং পেনড্রাইভের মাধ্যমে তা ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে, যা রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করে। কেলেঙ্কারি সামনে আসার পর প্রজ্জ্বল দেশ ছেড়ে জার্মানি পালিয়ে যান। পরে তিনি দেশে ফিরলে ৩১শে মে, ২০২৪ তারিখে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, একজন সাংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এই ধরনের জঘন্য অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাজা হওয়া উচিত। প্রজ্জ্বলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও, এটি তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির মধ্যে প্রথম যার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো। এই রায় দেশের আইনব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা আরও মজবুত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।