নিউজ ফ্রন্ট | বহরমপুর | ১০ নভেম্বর ২০২৫
বহরমপুর পৌরসভার উদ্যোগে আজ থেকে শুরু হলো এক অভিনব স্বাস্থ্য উদ্যোগ “ফাইলেরিয়া টেস্ট কর্মসূচি”। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে ফাইলেরিয়া রোগনির্ণায়ক পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রথম দিনের শিবিরটি অনুষ্ঠিত হয় বহরমপুর অগ্রগতি শিক্ষানিকেতন বিদ্যালয়ে, যেখানে প্রাথমিক স্তরের ৬ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের পরীক্ষা করা হয়।
এই শিবিরের মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ফাইলেরিয়া সংক্রমণ চিহ্নিত করে সময়মতো প্রতিরোধ গড়ে তোলা। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে শিশুদের রক্তের নমুনা কিটের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। শিশুরা যাতে ভয় না পায়, সেই জন্য অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল অঙ্কন প্রতিযোগিতা ও চকলেট বিতরণ। এই দিনে মোট ৫৫ জন শিশুর পরীক্ষা করা হয়, এবং সব পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে যা প্রশাসনের কাছে এক আশাব্যঞ্জক সূচনা।
শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বহরমপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি, ভাইস চেয়ারম্যান অপুর্ব সাহা, এক্সিকিউটিভ অফিসার, ফিনান্স অফিসার, স্বাস্থ্য আধিকারিক, কাউন্সিলর এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ।

চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি বলেন “মানুষ যাতে প্রাথমিক স্তরেই রোগ শনাক্ত করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। এই সময় থেকেই ফাইলেরিয়ার প্রকোপ দেখা যায়, তাই আগে থেকেই সচেতনতা জরুরি।”
তিনি আরও জানান, “আমরা সারা বছরই বিভিন্ন স্বাস্থ্য ক্যাম্প করি। আমাদের ১৪টি প্রাইমারি হেলথ সেন্টার ও ৩০টি স্কুলে ধাপে ধাপে এই পরীক্ষা শিবির হবে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমরা চাইছি কেউ যেন অযথা হাসপাতালে না ছুটে, প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা পেয়ে যায়।”
চেয়ারম্যান আরও বলেন, “শিশুরাই আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলতে হলে শুরুটা স্কুল থেকেই করতে হবে। ফাইলেরিয়ার মতো রোগ প্রথমে চিহ্নিত না হলে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তাই আমরা ফেজ-ওয়াইস শহরের সমস্ত ওয়ার্ড ও স্লাম এলাকায়ও এই কর্মসূচি চালাব।”
পৌর স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে শহরের অন্যান্য বিদ্যালয়েও একই কর্মসূচি নেওয়া হবে। যেখানে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও মাইক্রোবায়োলজিস্টদের তত্ত্বাবধানে বাচ্চাদের বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা করা হবে। ফাইলেরিয়া এক মশা-বাহিত রোগ, যা রক্তের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীকালে মারাত্মক জটিলতা তৈরি করে।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ প্রাথমিক পর্যায়ে বুঝতেই পারেন না যে তারা সংক্রমিত। এই কারণেই প্রশাসন চাইছে প্রতিরোধমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে।
বহরমপুর পৌরসভার হেলথ সেকশন সূত্রে জানা গেছে আগামী দিনে প্রতিটি ওয়ার্ডে ফাইলেরিয়া ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে আলাদা স্বাস্থ্য ক্যাম্প হবে। প্রাথমিকভাবে ৩০টি স্কুল ও ২০টি হেলথ সাব-সেন্টারে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের স্ক্রিনিং করা হবে। পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ করা হবে।
চেয়ারম্যান বলেন “আমাদের লক্ষ্য ‘জিরো টলারেন্স’ পলিসি ডেঙ্গু ও ফাইলেরিয়ার ক্ষেত্রে আমরা ইতিমধ্যেই সাফল্য পেয়েছি। গত বছরে ১২০০টি ডেঙ্গুর রিপোর্ট থেকে আমরা তা ২০-এর নিচে নামাতে পেরেছি। এবার লক্ষ্য ফাইলেরিয়া-মুক্ত বহরমপুর।”
বহরমপুর পৌরসভার এই উদ্যোগ শুধু একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা কর্মসূচি নয় এটি শহরের শিশুদের ভবিষ্যতের সুরক্ষা দেওয়ার এক বড় পদক্ষেপ।
প্রাথমিক স্তর থেকেই প্রতিরোধের এই প্রচেষ্টা “স্বাস্থ্যই সম্পদ” নীতিকে বাস্তব রূপ দিচ্ছে।
এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে, মানুষ সচেতন হলে ও প্রশাসন সক্রিয় থাকলে, “ফাইলেরিয়া মুক্ত বহরমপুর” একেবারেই সম্ভব।