কলকাতা, ১৫ জুলাই: দক্ষিণী চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী বি. সরোজা দেবী আর নেই। সোমবার সকালে বেঙ্গালুরুর মল্লেশ্বরমে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি।
সারা দেশের সিনেমাপ্রেমীদের কাছে ‘অভিনয় সরস্বতী’ নামে পরিচিত সরোজা দেবী প্রায় ২০০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। কন্নড়, তামিল, তেলুগু এবং হিন্দি – চারটি ভাষাতেই তার অবাধ দখল ছিল। তাঁর অভিনীত কিছু বিখ্যাত সিনেমা আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে অম্লান।
🎬 চলচ্চিত্র জীবন:
বি. সরোজা দেবী ছিলেন ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ১৯৫০ ও ৬০-এর দশকে দক্ষিণী সিনেমার প্রথম সারির নায়িকা হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই তামিল, তেলুগু, কন্নড় এবং হিন্দি ভাষায় ছিল। তিনি চারটি ভাষাতেই সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন, যা খুব কম অভিনেত্রীর ক্ষেত্রেই দেখা যায়।
- প্রথম সিনেমা: তাঁর চলচ্চিত্র জীবনের শুরু ১৯৫৫ সালে তামিল ছবি “Maheswari” দিয়ে।
- উল্লেখযোগ্য ছবি:
- তামিলে: Thangamalai Ragasiyam, Kalyana Parisu, Periya Idathu Penn।
- তেলুগুতে: Siri Sampadalu, Seetarama Kalyanam।
- কন্নড়ে: Sri Krishnadevaraya, Bedi Bandavalu।
- হিন্দিতে: Sasural (রাজেন্দ্র কুমারের সঙ্গে), Pyar Kiya To Darna Kya, Grahasti।
তাঁর অভিনয় দক্ষতা, সৌন্দর্য এবং সংলাপ বলার ভঙ্গি তাঁকে রোমান্টিক এবং ঐতিহাসিক চরিত্রে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তোলে। তাঁকে “Abinaya Saraswathi” (অভিনয় সরস্বতী) উপাধিতে সম্মানিত করা হয়।
কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এক শোকবার্তায় বলেন,
“প্রবীণ কন্নড় অভিনেত্রী বি. সরোজা দেবীর মৃত্যু হৃদয়বিদারক। তাঁর অসামান্য অবদান কন্নড় তথা ভারতীয় সিনেমাকে সমৃদ্ধ করেছে।”
বি. সরোজা দেবী তাঁর অসামান্য অভিনয় প্রতিভার জন্য বহু গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ১৯৬৫ সালে তিনি ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মশ্রী এবং ১৯৯২ সালে তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ লাভ করেন। এছাড়াও তিনি Kalaimamani Award, Karnataka Rajyotsava Award এবং NTR National Award-সহ একাধিক রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের পুরস্কারে সম্মানিত হন, যা তাঁর দীর্ঘ ও গৌরবময় চলচ্চিত্র জীবনের স্বীকৃতি বহন করে।
সরোজা দেবীর জন্ম ১৯৩৮ সালের ৭ জানুয়ারি, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু শহরে। তাঁর পিতা ভদ্রাইয়া কর্ণাটক সরকারের পোর্ট ট্রাস্টে কাজ করতেন এবং মা মুণিচাম্মা ছিলেন গৃহবধূ। তিনি হার্শানাথ নামক এক সরকারি কর্মকর্তা ও শিল্প উদ্যোক্তাকে বিয়ে করেন। হার্শানাথ ১৯৮৬ সালে প্রয়াত হন। এই দম্পতির একটি পুত্রসন্তান ছিল, যিনি শৈশবেই মারা যান। এরপর থেকে সরোজা দেবী আর বিবাহ করেননি এবং একা জীবনযাপন শুরু করেন।
সরোজা দেবীর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল বলে মনে করছেন শিল্পী মহল ও ভক্তরা।বি. সরোজা দেবী শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী নন, তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক ইতিহাস। তাঁর মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তবু তাঁর অনবদ্য কাজ চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।