বিক্রির আগেই ধরা পড়ল দুই গাড়িভর্তি জাল টিকিট, গ্রেপ্তার ৩ জন
নিউজ ফ্রন্ট, দুবরাজপুর, ১৯ জুন: বীরভূমের দুবরাজপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের জাল লটারি টিকিট বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বিক্রির আগেই দুটি গাড়িভর্তি জাল টিকিট উদ্ধার করে দুবরাজপুর থানার পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
দুবরাজপুরের সিআই শুভাশিস হালদার ও দুবরাজপুর থানার ওসি মনোজ সিং এর তত্ত্বাবধানে গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরে এই এলাকায় জাল লটারি টিকিটের ব্যবসা চলছিল। পুলিশের নজরদারিতে থাকা সন্দেহভাজন দুটি গাড়ি আটক করার পর এই বিপুল পরিমাণ জাল টিকিট উদ্ধার হয়।
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে যে, রাজ্য সরকারের কর ফাঁকি দিয়ে এই অবৈধ কারবার চালানো হচ্ছিল। জাল লটারি টিকিট তৈরি ও বিক্রয়ের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে।
ধৃতদের নাম কৈলাস দাস, জহন বড়ুয়া, দ্বীপ পাল। প্রত্যেকেরই বাড়ি সিউড়িতে। পুলিশ জানিয়েছে, আরও সহযোগী রয়েছে কিনা সেই তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, এই জাল লটারি টিকিট শুধু বীরভূম জেলাতেই নয়, আশেপাশের জেলাগুলিতেও বিক্রয়ের পরিকল্পনা ছিল। পুলিশের সন্দেহ, এটি একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের অংশ হতে পারে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের জাল লটারি টিকিট, দুটি গাড়ি যা টিকিট পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল, এবং বেশ কিছু মোবাইল ফোন।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, কর ফাঁকি ও জনগণকে প্রতারণার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের আজ স্থানীয় আদালতে হাজির করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের আরও সদস্য আছে কিনা সেই বিষয়ে তদন্ত চলছে। রাজ্য সরকারের লটারি বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, এই ধরনের জাল লটারি টিকিট বিক্রয়ের ফলে সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হয়। এছাড়াও সাধারণ মানুষ প্রতারিত হয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
পুলিশ জনসাধারণকে সচেতন করে দিয়ে বলেছে যে, লটারি টিকিট কেনার সময় সতর্ক থাকতে হবে এবং অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকেই টিকিট কিনতে হবে। সন্দেহজনক কোনো লটারি টিকিট দেখলে নিকটস্থ পুলিশ স্টেশনে খবর দিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
গত কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক জাল লটারি টিকিটের ঘটনা ধরা পড়েছে।
মুর্শিদাবাদে একাধিক ঘটনা: জুন মাসে বহরমপুর থানার পুলিশ হরিদাসমাটি এলাকা থেকে অমরনাথ ঘোষ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ৪৩০০টি জাল লটারি টিকিট উদ্ধার করে। উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতায় ছাপানো এই জাল টিকিট গত দুই মাস ধরে এজেন্ট দিয়ে বহরমপুর ও জঙ্গিপুর মহকুমায় বিক্রি করা হচ্ছিল।
এর আগে মার্চ মাসে রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে তিন হাজারের বেশি জাল ‘ডিয়ার লটারি’ টিকিট উদ্ধার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মোজাহার শেখ, মিনারুল শেখ, আরজু শেখ, মনিরুল শেখ ও সানিরুল শেখ। ঝাড়খণ্ড থেকে আনা এই জাল টিকিটে প্রকৃত পুরস্কারের তুলনায় কম অর্থমূল্যের (২০-২৫ হাজার টাকা) পুরস্কার দেওয়া হত।
দুবরাজপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে যে, এই মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এই চক্রের আরও সদস্য ও তাদের কার্যকলাপের বিস্তৃত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। মুর্শিদাবাদ, আসানসোল ও অন্যান্য জেলায় ঘটে যাওয়া অনুরূপ ঘটনার সাথে এই মামলার কোনো যোগসূত্র আছে কিনা সেই বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।