নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ: জাল আধার কার্ড চক্রের মূল পান্ডাসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করে বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করল রানীনগর থানার পুলিশ। দীর্ঘদিনের গোপন নজরদারি ও একাধিক ধাপে অভিযান চালিয়ে এই চক্রটি ধরা পড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৩ মে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রথম দফায় তিনজনকে আটক করা হয়—
আবু সুফিয়ান, রফিকুল ইসলাম এবং জামালউদ্দিন শেখকে।
তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১টি ল্যাপটপ, ২টি প্রিন্টার মেশিন, একটি রাবার তৈরি নকল আঙুলের ছাপ, ১টি স্ক্যানার, ১টি রেটিনা স্ক্যানিং মেশিন এবং একটি ওয়েব ক্যামেরা। পুলিশি জেরায় উঠে আসে সহযোগী গফফার আলির নাম, যাকে ২০ মে গ্রেফতার করে ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
এরপর ২১ মে শেখপাড়া বাজার এলাকা থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় গ্রেফতার হয় আরও এক অভিযুক্ত, সাব্বির আহমেদ ওরফে সুজন। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৪টি ল্যাপটপ, ৪টি রেটিনা স্ক্যানিং মেশিন এবং ২টি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন।
দীর্ঘ তদন্তের পর গত ৭ আগস্ট জলঙ্গি থানার পাকুরদিয়ার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় চক্রের মূল পান্ডা মহাবুল ইসলামকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয় ৫টি জাল আধার কার্ড ও একটি এইচপি প্রিন্টার।
এখন পর্যন্ত এই মামলায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ ৫টি ল্যাপটপ, ৩টি প্রিন্টার, ৫টি রেটিনা স্ক্যানিং মেশিন, ৩টি ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, ১টি রাবার তৈরি নকল ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ১টি স্ক্যানার, ১টি ওয়েব ক্যামেরা এবং একাধিক জাল আধার কার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা আসাম থেকে জাল আইডি ব্যবহার করে আধার কার্ড তৈরি করত এবং তা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার হতো। চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও কারা রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত এখনো চলছে।