নিউজ ফ্রন্ট,সাগরদিঘি, মুর্শিদাবাদ: উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের ইতিহাস পরীক্ষার দিন চরম গাফিলতির ঘটনা সামনে এল সাগরদিঘি এস এন হাই স্কুলে। সোমবারের পরীক্ষায় সাঁওতালি মাধ্যমের ছাত্রদের অলচিকি ভাষার প্রশ্নপত্রের বদলে বাংলায় প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। এই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় এক ঘন্টা পর এক ছাত্র বিষয়টি শিক্ষককে জানায়। এরপরই শুরু হয় উত্তেজনা। এই পরিস্থিতিতে, স্কুল কর্তৃপক্ষ নতুন করে অলচিকি ভাষার প্রশ্নপত্র ও ওএমআর শিট দিয়ে পুনরায় পরীক্ষা নেয় বলে সুত্রের খবর।
টি আই সি-এর চরম গাফিলতি এবং দায় এড়ানোর চেষ্টা
এই বিষয়ে জানতে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সাগরদিঘি স্কুলের টিচার-ইন-চার্জ (TIC) বিদ্যুৎ কুমার মণ্ডল সাংবাদিক পরিচয় জানতে পেরেই বারবার ফোন কেটে দেন, একজন TIC-এর কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ গাফিলতির চেয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিল। একজন পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ভর করে যে পরীক্ষার ওপর, সেখানে TIC-এর নীরবতা এবং দায় এড়ানোর মানসিকতা অত্যন্ত নিন্দনীয়। একজন শিক্ষক ও প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে তার উচিত ছিল অবিলম্বে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা। কিন্তু তার নীরবতা এই ঘটনার গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই প্রসঙ্গে জঙ্গিপুরের যুগ্ম পরীক্ষা পরিদর্শক ও জেলা তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের সভাপতি আশরাফ রিজভি সম্পূর্ণ ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, “এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শুধু অলচিকির জায়গায় বাংলা ওএমআর শিট দেওয়া হয়েছিল।” তার এই মন্তব্যে আরও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
চরদিঘি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ম্যাথিয়াস মুর্মু স্পষ্ট জানিয়েছেন, “সাগরদিঘি স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তিনি ছুটিতে থাকায় একজন সহ-শিক্ষককে পাঠান। পরে ছাত্রদের নতুন OMR শিটে পরীক্ষা নেওয়া হয়। যাই হোক ব্যাপারটা ভালো ভাবে মিটে গেছে।“
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদ জেলার ডিআই জয়ন্ত হালদার এই ঘটনা সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। আমি খোজ নিয়ে দেখছি। যদি এমন গাফিলতি হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই আমি রিপোর্ট নেব।”
যে পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, সেখানে এমন গাফিলতি কেন ঘটল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরীক্ষার মতো গুরুতর বিষয়ে এই ধরনের গাফিলতি অগ্রহণযোগ্য। প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে কোনও ছাত্রছাত্রীকে এমন পরিস্থিতির শিকার না হতে হয়।