জয়পুর-আজমের হাইওয়েতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ — একের পর এক ফেটে গেল ৪০টিরও বেশি এলপিজি সিলিন্ডার, চালক পুড়ে ছাই

নিউজ ফ্রন্ট,  দোদু, জয়পুর-আজমের হাইওয়ে:

রাজস্থানের জয়পুর-আজমের জাতীয় সড়ক মঙ্গলবার গভীর রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দোদু এলাকার কাছে রাত প্রায় ১১টার সময় একটি রাসায়নিক বোঝাই ট্যাঙ্কার দাঁড়িয়ে থাকা একটি এলপিজি সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দুই গাড়িতে, এবং একের পর এক এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হতে শুরু করে।

সরাসরি আগুনের কবলে পড়ে ট্রাকচালক পুড়ে ছাই হয়ে যান। আরও অন্তত তিনজন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায় — বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়।

জয়পুর জেলা শাসক ডঃ জিতেন্দ্র সোনি জানান, ঘটনাস্থলে ৪২টি বিস্ফোরিত সিলিন্ডারের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ১২০টি অক্ষত সিলিন্ডার নিরাপদে সরিয়ে নেয় হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের বিশেষ দল, সমস্ত নিরাপত্তা বিধি মেনে এলাকা স্যানিটাইজ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ট্রাকটি রাস্তার ধারে এক হোটেলের বাইরে পার্ক করা ছিল, চালক তখন খাবার খেতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই রাসায়নিক ট্যাঙ্কারটি ট্রাকের গায়ে ধাক্কা মারে। ধাক্কার ফলে ট্যাঙ্কারের কেবিনে আগুন ধরে যায় এবং ট্রাকের সিলিন্ডারগুলি রাস্তায় ছিটকে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক বিস্ফোরণ শুরু হয়, যার ধাক্কায় আশেপাশের দোকান ও জানলার কাচ ভেঙে যায়।

ঘটনার পর দোদু থানার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। সঙ্গে সঙ্গে হাইওয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলের একাধিক ইঞ্জিন তিন ঘণ্টা ধরে কাজ চালায়। শেষ পর্যন্ত রাত ৩টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী প্রেমচন্দ বৈরও রাত ১২টার সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজের তদারকি করেন। তিনি বলেন, “এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত মর্মান্তিক। মৃতদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। ঘটনায় কোনও গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা শোকপ্রকাশ করে টুইট করেন — “জয়পুর-আজমের হাইওয়ের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি দুঃখজনক। প্রশাসনকে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা অভিযোগ তুলেছেন, দুর্ঘটনার সময় আরটিও-একটি দল হাইওয়েতে গাড়ি চেক করছিল, সেটি এড়াতে গিয়ে ট্যাঙ্কার চালক হঠাৎ লেন পরিবর্তন করে ফেলেন এবং নিয়ন্ত্রণ হারান। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর ডিসেম্বর মাসেও একই হাইওয়েতে ভয়াবহ এলপিজি ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ১৯ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

প্রবল বিস্ফোরণে জয়পুর-আজমের হাইওয়ে আবারও রক্তাক্ত হলো। প্রশাসন আগুন নেভালেও, ভয়াবহ সেই রাতের দৃশ্য স্থানীয়দের মনে গভীর দাগ রেখে গেল — যেখানে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ মিশে গিয়েছিল মানুষের আতঙ্ক আর অসহায় চিৎকারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *