নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে কোমর বেঁধে নামল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে জারি করা এক নতুন নির্দেশিকায় উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের মোট ১১টি জেলার জেলাশাসককে অবিলম্বে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কলকাতা পুরসভার কমিশনার এবং কলকাতার দুই নির্বাচনী আধিকারিককেও (DEO) পরিবর্তন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ার—এই ১১টি জেলার জেলাশাসকদের বদলি করা হয়েছে।
এক নজরে নতুন জেলাশাসকদের তালিকা:
| জেলার নাম | নবনিযুক্ত জেলাশাসক (IAS) | ব্যাচ |
| মুর্শিদাবাদ | আর অর্জুন | ২০১০ |
| নদীয়া | শ্রীকান্ত পাল্লি | ২০১৫ |
| উত্তর ২৪ পরগনা | শিল্পা গৌরীসারিয়া | ২০০৯ |
| দক্ষিণ ২৪ পরগনা | অভিষেক কুমার তিওয়ারি | ২০১২ |
| পূর্ব বর্ধমান | শ্বেতা আগরওয়াল | ২০১৬ |
| মালদা | রাজনবীর সিং কাপুর | ২০১২ |
| উত্তর দিনাজপুর | বিবেক কুমার | ২০১৬ |
| জলপাইগুড়ি | সন্দীপ ঘোষ | ২০১৬ |
| কোচবিহার | জিতিন যাদব | ২০১৬ |
| দার্জিলিং | হরিশঙ্কর পানিক্কের | ২০১৩ |
| আলিপুরদুয়ার | টি বালাসুব্রমানিয়ান | ২০১৩ |
জেলাগুলোর পাশাপাশি কলকাতাতেও বড় পরিবর্তন এনেছে কমিশন। কলকাতা পুরসভার কমিশনার এবং উত্তর কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্মিতা পাণ্ডে (২০০৫ ব্যাচ)। দক্ষিণ কলকাতার নির্বাচনী আধিকারিক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন রণধীর কুমার (২০০৬ ব্যাচ)।
কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, নবনিযুক্ত আধিকারিকদের আগামীকাল ১৯ মার্চ দুপুর ৩টের মধ্যে নিজেদের নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট কমিশনকে পাঠাতে হবে। এছাড়া যে আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়া হলো, নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের ভোট সংক্রান্ত কোনও দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।