রাজ্য পুলিশের ওপর অনাস্থা? বাংলায় সিইও দপ্তরের নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সুপারিশ নির্বাচন কমিশনের

নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি ও কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ কুমার আগরওয়ালের দপ্তরের নিরাপত্তা নিয়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। গত কয়েকদিন ধরে ওই দপ্তরের বাইরে চলা লাগাতার বিক্ষোভ এবং বিশৃঙ্খলার জেরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি লিখে সিইও দপ্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সুপারিশ জানাল কমিশন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা দফায় দফায় সিইও দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের গাড়ি আটকেছেন এবং দপ্তরের ভেতরে ঢুকে ধর্ণা দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার এসআইআর-এর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভকারীরা দপ্তরের একেবারে ভেতরে পৌঁছে যান।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সিইও দপ্তরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে তারা একাধিকবার রাজ্য পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতেই বারবার নিরাপত্তা বলয় ভেঙে বিক্ষোভকারীরা ভেতরে ঢুকে পড়ায় ক্ষুব্ধ কমিশন। রাজ্য পুলিশের ওপর আর ভরসা না রেখে সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) ঘেরাটোপে সিইও দপ্তরকে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে, সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে আসা আসলে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা। অন্যদিকে, বিজেপি ও বিরোধী শিবিরের দাবি, রাজ্যে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরই যদি পুলিশ নিরাপত্তা দিতে না পারে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

সব মিলিয়ে, বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানোর এই সুপারিশ রাজ্য বনাম কমিশন সংঘাতকে এক নতুন মাত্রা দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *