নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পাঠানো ৮,৫০৫ জন মাইক্রো অবজারভারের তালিকা গ্রহণ করল না ভারতের নির্বাচন কমিশন। বরং সেই তালিকা রাজ্য সরকারকে ফেরত পাঠিয়ে পুনরায় তা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট প্রশ্ন পাঠানো তালিকায় কতজন এআরও (AERO) রয়েছেন এবং কোন পদমর্যাদার আধিকারিকদের নাম এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাব দিতে হবে রাজ্যকে।
ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, নির্বাচনের নজরদারির কাজের জন্য রাজ্য সরকারকে দ্রুত গ্রুপ-বি (Group-B) পদমর্যাদার আধিকারিকদের নাম মাইক্রো অবজারভার হিসেবে কমিশনকে পাঠাতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে নবান্ন ৮,৫০৫ জনের একটি তালিকা পাঠিয়েছিল। কিন্তু কমিশনের প্রাথমিক স্ক্রুটিনিতেই এই তালিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল শুধুমাত্র গ্রুপ-বি অফিসারদের নাম পাঠানোর। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য সরকার যে তালিকা পাঠিয়েছে তাতে প্রচুর সংখ্যায় গ্রুপ-সি (Group-C) পদমর্যাদার কর্মী, যেমন— এলডিসি (LDC) এবং নার্সদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও দেখা গিয়েছে, তালিকায় এমন অনেক আধিকারিক রয়েছেন যারা বর্তমানে এআরও (Assistant Electoral Registration Officer) হিসেবে কাজ করছেন। একজন অফিসার একই সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকতে পারেন না, যা কমিশনের নজর এড়ায়নি।
তালিকায় এই ধরনের ‘গোলমাল’ নজরে আসতেই কমিশন সেটি বাতিল করে দেয়। কমিশন নবান্নকে নির্দেশ দিয়েছে যে তালিকায় থাকা প্রত্যেক আধিকারিকের গ্রেড বা পদমর্যাদা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করতে হবে। গ্রুপ-সি কর্মীদের নাম বাদ দিয়ে কেবল যোগ্য আধিকারিকদের তালিকা পাঠাতে হবে। কোন কোন আধিকারিক আগে থেকেই এআরও হিসেবে যুক্ত, তাও চিহ্নিত করতে হবে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের একবার রাজ্য বনাম কমিশন সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও নিম্ন পদের কর্মীদের নাম পাঠানোয় রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এখন দেখার, নতুন তালিকায় রাজ্য সরকার কোন সংশোধনী নিয়ে আসে।