নিউজ ফ্রন্ট, দিল্লিঃ
প্রবাহমান অর্থপাচার তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আল ফালাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকিকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ-র অধীনে গ্রেপ্তার করেছে ইডি। আল ফালাহ গ্রুপের অফিস ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যে নথিপত্র ও তথ্য উঠে এসেছে, সেগুলির বিশদ বিশ্লেষণের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
গতকাল দিল্লি জুড়ে মোট ১৯টি স্থানে তল্লাশি চালায় ইডি। এর মধ্যে ছিল আল ফালাহ ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন দফতর, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট পরিচালকদের বাড়ি ও গ্রুপের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আবাসিক ঠিকানা। তল্লাশিতে ৪৮ লক্ষ টাকার বেশি নগদ, একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস এবং বিপুল পরিমাণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
ইডি জানিয়েছে, তদন্তে দেখা গেছে বিপুল পরিমাণ বেআইনি অর্থ পরিবার-নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানে সরানো হয়েছে। আল ফালাহ ট্রাস্টের টাকা নিয়ম ভেঙে বহু শেল কোম্পানিতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা গেছে। সংস্থার বিরুদ্ধে একাধিক আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগই সবচেয়ে গুরুতর।
ইডি–র তদন্ত শুরু হয় দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের দায়ের করা দুটি এফআইআরকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ছিল, ফরিদাবাদের আল ফালাহ ইউনিভার্সিটি ভুয়ো এনএএসি (NAAC) স্বীকৃতির দাবি তুলে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের প্রতারিত করেছে এবং প্রতিষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় দেখানোর নামে আর্থিক সুবিধা আদায় করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেটিং ও মান সম্পর্কে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বেআইনি অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
ইডি জানিয়েছে, পুরো অর্থপ্রবাহ এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ে জড়িত আরও কেউ থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাওয়াদ আহমেদ সিদ্দিকিকে আদালতে তোলা হবে এবং তদন্ত সংস্থা তাঁকে হেফাজতে চাইতে পারে বলে অনুমান।