দুর্গাপুর মেডিক্যাল ছাত্রী গণধর্ষণ মামলা: ২০ দিনের মাথায় আদালতে চার্জশিট, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আশায় প্রশাসন

নিউজ ফ্রন্ট, দুর্গাপুর, ৩০ অক্টোবর
দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের তদন্তে বড় অগ্রগতি। ঘটনার মাত্র ২০ দিনের মধ্যেই দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে চার্জশিট জমা দিল পুলিশ। এই দ্রুত পদক্ষেপে তদন্তের গতি ও প্রমাণ সংগ্রহে প্রশাসনের তৎপরতা স্পষ্ট বলে মনে করছে আইনি মহল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোট ছয়জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে অভিযোগ আনা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত সহপাঠী ওয়াসিফ আলি-র বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য তিন অভিযুক্ত — শেখ নাসিরুদ্দিন, অপু বাউরি ও শেখ ফিরদৌস  এর বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, ডাকাতি ও তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, শেখ রিয়াজউদ্দিন এবং শেখ শফিক-এর বিরুদ্ধে জোর করে টাকা আদায়, ছিনতাই ও ডাকাতির অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে চার্জশিটে।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলের ফরেনসিক রিপোর্ট, চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রমাণ ও ডিজিটাল প্রমাণ আদালতে জমা দিয়েছে।

বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “পুলিশ খুব দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করেছে। আমরা আশা করছি, আগামী দু’মাসের মধ্যেই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে। আদালত এই মামলাকে প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত রায় দিতে পারে।”

উল্লেখ্য, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে দুর্গাপুরের ওই মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, অভিযুক্তরা প্রথমে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে হুমকি দেয় এবং পরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। ঘটনার পর ছাত্রী পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলে, তদন্ত শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে ছয় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই ঘটনায় কলেজ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তকারীরা কলেজের সিসিটিভি ফুটেজ এবং ছাত্রাবাসের উপস্থিতি নথি খতিয়ে দেখছেন। আইনজীবীদের মতে, চার্জশিট দ্রুত জমা দেওয়া বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে এবং এটি নারী নির্যাতনের মামলাগুলির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হতে পারে।

পরবর্তী শুনানি আগামীকাল, দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে নির্ধারিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *