“আমার মেয়েটাকে ফিরিয়ে দিন…” মায়ের আর্তনাদে ভারী বাতাস, ভরতপুরে নিখোঁজ শিশুর খোঁজে নামল ড্রোন ও পুলিশ কুকুর

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভরতপুর: বাড়ির সামনে খেলতে বেরিয়েছিল সাত বছরের ছোট্ট সোহানা। কিন্তু খেলা শেষে আর ঘরে ফেরা হলো না তার। শনিবার সন্ধ্যা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার সৈয়দ কুলুট গ্রামের শিশু সোহানা খাতুন। রবিবার দুপুর গড়িয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় চরম উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কে দিন কাটছে পরিবারের। নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। নামানো হয়েছে অনুসন্ধানী কুকুর ও ড্রোন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার পড়ন্ত বিকেলে আর পাঁচটা দিনের মতোই বাড়ির সামনে খেলতে বেরিয়েছিল সোহানা। সাধারণত সন্ধ্যার আগেই সে বাড়ি ফিরে আসে। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে গেলেও মেয়ে বাড়ি না ফেরায় দুশ্চিন্তা বাড়ে পরিবারের। প্রথমে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা মিলে গ্রামের অলিগলি, পুকুরপাড় ও প্রতিবেশীদের বাড়ি তন্নতন্ন করে খোঁজেন। কিন্তু কোথাও সোহানার কোনো হদিশ মেলেনি।

শনিবার রাতেই ভরতপুর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার। খবর পেয়েই রাতেই গ্রামে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। রাতভর স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। রবিবার সকাল হতেই অভিযানের ঝাঁঝ বাড়ায় পুলিশ প্রশাসন। গ্রামের ঝোপঝাড়, বাগান, ফাঁকা জমি এবং পুকুরগুলোতে তল্লাশি চালাতে নিয়ে আসা হয় অনুসন্ধানী কুকুর (Sniffer Dog)। পাশাপাশি, আকাশপথে নজরদারি চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন ক্যামেরা। খালপাড় থেকে শুরু করে গ্রামের দুর্গম এলাকাগুলো ড্রোনের মাধ্যমে স্ক্যান করা হচ্ছে।

সোহানার নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সৈয়দ কুলুট গ্রামে ভিড় জমিয়েছেন আশেপাশের গ্রামের মানুষ। উৎসব বা মেলা নয়, এক বিষাদগ্রস্ত জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে গোটা গ্রাম। গ্রামবাসীরাও নিজেদের উদ্যোগে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন। সকলের চোখেমুখে এখন একটাই প্রশ্ন কোথায় উবে গেল সাত বছরের শিশুটি?

মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা। বিলাপ করে তিনি একটাই কথা বলছেন, “আমার মেয়েটাকে আপনারা ফিরিয়ে দিন।” সোহানার বাবার অবস্থাও তথৈবচ। পরিবারের এই করুণ আর্তি দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না প্রতিবেশীরাও।

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। অপহরণ, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে আরও বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আপাতত টানটান উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে কাটছে সৈয়দ কুলুট গ্রামের প্রতিটি মুহূর্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *