নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ৭ আগস্ট — লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী আজ এক সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন। তাঁর বক্তব্য, “ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আজ প্রশ্নের মুখে। একদিকে ‘এক ব্যক্তি এক ভোট’-এর ধারণা আর অন্যদিকে ভোটার তালিকায় ভুয়ো নাম সংযোজন — এ দু’য়ের মধ্যে ভারসাম্য নেই।”
ইভিএম, এক্সিট পোল ও বাস্তব ফল — সবই যেন নির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ
রাহুল বলেন, “ভারতের প্রতিটি রাজনৈতিক দল শাসনে এসে এক সময় ‘অ্যান্টি ইনকাম্বেন্সি’-এর মুখোমুখি হয়। কিন্তু বিজেপির ক্ষেত্রে তা হয় না। এটা কীভাবে সম্ভব? এক্সিট পোল, ওপিনিয়ন পোল একটা কথা বলছে, আর ফল হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা — এমন বহু রাজ্যে আমরা এই নাটক দেখেছি।”
তিনি বলেন, “এটা কেবলমাত্র ‘লাডলি বেহনা’, ‘পুলওয়ামা’, ‘সিঁদুর অভিযান’-এর কারণে নয়, বরং পুরো নির্বাচনই যেন ‘চোরিওগ্রাফড’। আগে পুরো দেশ একদিনে ভোট দিত। এখন সেটা হয় ধাপে ধাপে — কখনও বিহারে, কখনও উত্তরপ্রদেশে। এত দীর্ঘ সময় কেন লাগে?”
মহারাষ্ট্রে এক কোটির বেশি ‘নতুন ভোটার’ – অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান
রাহুল গান্ধী জানান, মহারাষ্ট্রে বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের মধ্যে মাত্র কয়েক মাস ব্যবধানে ভোটার তালিকায় এক কোটির বেশি নতুন নাম যুক্ত হয়েছে। তাঁর কথায়, “এই পাঁচ মাসে ভোটার তালিকায় যত নতুন ভোটার এসেছে, তা গত পাঁচ বছরে আসেনি। এমনকি ভোটার সংখ্যা রাজ্যের জনসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে — এটা কি স্বাভাবিক?”
তিনি বলেন, “লোকসভায় যেখানে আমাদের জোট জয় পেয়েছিল, বিধানসভায় কয়েক মাসের মধ্যে সেই জোট মুছে গেল। আমরা নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছিলাম, আমি সংসদে বলেছি, সংবাদপত্রে কলাম লিখেছি — কিন্তু কোনও উত্তর আসেনি। স্পষ্টভাবে বলছি, মহারাষ্ট্রে নির্বাচন চুরি হয়েছে।”
কর্ণাটকের মহাদেবপুরা কেন্দ্রেও একই ঘটনা
রাহুল আরও বলেন, কর্ণাটকের মহাদেবপুরা কেন্দ্রেও ভোট চুরির ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, “৬.৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে অন্তত এক লক্ষ ভোট চুরি হয়েছে। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে — এই কেন্দ্রে এক লাখের বেশি ‘ডুপ্লিকেট ভোটার’, ভুল ঠিকানা, এবং ‘বাল্ক ভোটার’ রয়েছে।”
নির্বাচন কমিশন দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করছে, এটা ভারতীয় সংবিধান ও তেরঙ্গার বিরুদ্ধে অপরাধ
রাহুল গান্ধী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন।
“আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলতে চাই — আপনাদের কাজ গণতন্ত্র ধ্বংস করা নয়, বরং রক্ষা করা। এখন যা কিছু তথ্য উঠে আসছে, তা নিছক তথ্য নয় — এগুলো প্রমাণ। শুধু কর্ণাটকের নয়, দেশের প্রতিটি রাজ্যের ভোটার তালিকা এখন অপরাধের প্রমাণ হয়ে উঠেছে।”
রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, সারা দেশে ভোটার তালিকায় জালিয়াতি হচ্ছে, এবং এটা পরিকল্পিতভাবে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র।
“এটা শুধুমাত্র একটা নির্বাচনী কেন্দ্রের নয় — আমরা স্পষ্টভাবে বুঝেছি এটা দেশব্যাপী ঘটছে। আমরা এই প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করেছি, অধ্যয়ন করেছি। এটা ভারতীয় সংবিধান এবং জাতীয় পতাকার (তেরঙ্গা) বিরুদ্ধে অপরাধ।”
তিনি আরও বলেন: “আমাদের কাছে এখন সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভোটার তালিকাই এই অপরাধের প্রমাণ। অথচ নির্বাচন কমিশন এগুলো মুছে ফেলতে ব্যস্ত। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা চাই এই অপরাধের বিচারের মুখোমুখি করা হোক দোষীদের।”
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরেছে। বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাঁর সন্দেহ ও অভিযোগ আগামী দিনে আরও রাজনৈতিক উত্তাপ সৃষ্টি করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।