নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ, ১৪ নভেম্বর:
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, কম শারীরিক পরিশ্রম এবং বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা শিশুদের মধ্যেও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ এবং ভারত সরকারের বিভিন্ন সতর্কবার্তার মধ্যেই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আনল মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন ও শিশু সুরক্ষায় কাজ করা সংস্থা সিনি (CINI)
মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসন এবং শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা সংস্থা CINI (Child in Need Institute)-এর প্রাথমিক নিরীক্ষায় উঠে এসেছে alarming তথ্য। জেলার ১৭০০ জন স্কুল পড়ুয়া শিশুর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩০০ জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুর হদিশ মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উপযুক্ত পদক্ষেপ না নিলে এই সংখ্যা আগামীতে আরও বাড়তে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে, শিশু দিবস (১৪ নভেম্বর) এবং বিশ্ব ডায়াবেটিস প্রতিরোধ দিবসকে সামনে রেখে মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন স্কুলে বিশেষ সচেতনতা ও রোগনির্ণয় শিবিরের আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের ডায়াবেটিস নিয়ে সচেতন করার পাশাপাশি অভিভাবকদের নিয়েও বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে বছর জুড়ে স্কুলে স্কুলে এই শিবির চলবে।
বহরমপুরের হাতিনগর আদিবাসী শ্রীকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠে আজ এক বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রথম পর্বে পুষ্টিবিদ এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ডায়াবেটিস কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সেই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা শিশুদের জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস, দৈনন্দিন রুটিন, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, জাঙ্ক ফুড পরিহার—এসব বিষয়ে বাস্তব পরামর্শ দেন। পুস্তিকা ও সচেতনতামূলক নথি তুলে ধরা হয়।
এর পাশাপাশি স্কুল চত্বরে ডায়াবেটিস নির্ণয়ের বিশেষ মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হয় যেখানে শিশুদের দ্রুত রক্ত-শর্করা পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয়।

শিশু অধিকার কর্মী জয়ন্ত চৌধুরী এই উদ্যোগের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বলেন, “আমরা শিশু দিবস কাদের জন্য পালন করব? অবশ্যই শিশুদের জন্য। কিন্তু সেই শিশুরাই যদি অসুস্থ থাকে, ভবিষ্যতটা যদি অসুস্থতায় কাটাতে হয়, তাহলে তো আজকের এই দিবস পালন করার কোনো গুরুত্ব থাকে না। তাই আজকে শিশুদিবস এবং ডায়াবেটিস প্রতিরোধ দিবস একসঙ্গে পালন করছি এই বার্তা দিতেই যে আগামী প্রজন্মকে সুস্থ রাখতে হবে, বিশেষত ডায়াবেটিসমুক্ত রাখতে হবে।”
স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান সেখ জানান, “এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। শিশুর মধ্যে ডায়াবেটিস বাড়ছে—এটা শুধু স্বাস্থ্য সমস্যা নয়, সামাজিক উদ্বেগও। তাই সচেতনতা ছড়ানো জরুরি।”
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিস বৃদ্ধির অন্যতম কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মোবাইল ও স্ক্রিন টাইমের বৃদ্ধি, ব্যায়ামের অভাব এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার অভাব। তাই স্কুলভিত্তিক এই ধরনের উদ্যোগই শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যতের পথ খুলে দিতে পারে।