সেমিস্টার প্রথা বাতিল ও স্কুল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী সরানোর দাবিতে বিক্ষোভ AIDSO-র
নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর :
উচ্চমাধ্যমিক স্তরে নতুন সেমিস্টার প্রথা বাতিল এবং স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে উঠল বহরমপুরের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (ডিআই) দফতর চত্বর। ছাত্র সংগঠন AIDSO-র ডাকা ‘শিক্ষা ভবন অভিযান’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারী ছাত্রদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
এদিন দুপুরে বহরমপুরের ঐতিহাসিক Grant Hall Maidan থেকে AIDSO-র উদ্যোগে একটি প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি মোহনা বাসস্ট্যান্ড হয়ে শিক্ষা ভবনের দিকে অগ্রসর হলে ধীরে ধীরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
শিক্ষা ভবনের সামনে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয়। সেই সময় ছাত্ররা পুলিশের প্রথম ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে দ্বিতীয় স্তরের ব্যারিকেডের সামনে পুলিশ তাদের আটকে দিলে কয়েকশো ছাত্রছাত্রী সেখানেই রাস্তায় বসে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন।

আন্দোলনকারী ছাত্রদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও প্রস্তুতি ছাড়াই উচ্চমাধ্যমিক স্তরে হঠাৎ করে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে সিলেবাস শেষ না করেই পরীক্ষা দিতে হয়েছে এবং অনেক পড়ুয়া সময়মতো পাঠ্যপুস্তকও পাননি বলে অভিযোগ।
আসন্ন নির্বাচনের আগে বিভিন্ন স্কুলে আধা সামরিক বাহিনী রাখার সিদ্ধান্তেরও তীব্র বিরোধিতা করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলে স্বাভাবিক পঠন-পাঠন ব্যাহত হচ্ছে এবং পড়ুয়াদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
বিক্ষোভ চলাকালীন সংগঠনের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের সঙ্গে দেখা করতে দফতরে প্রবেশ করেন এবং তাঁদের দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
AIDSO-র রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হলে দীর্ঘ সময় ধরে পঠন-পাঠন বন্ধ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। জানুয়ারি মাস থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কারণে স্কুলে স্বাভাবিক ক্লাস প্রায় বন্ধ ছিল। এর মধ্যে আবার নির্বাচন উপলক্ষে বাহিনী রাখলে শিক্ষাব্যবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া, সঠিক সময়ে বই না পাওয়া এবং পরিকাঠামোর অভাবের মধ্যেই নতুন সেমিস্টার পদ্ধতি চালু করায় ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, অবিলম্বে স্কুলে স্বাভাবিক পঠন-পাঠন চালু না হলে এবং সেমিস্টার প্রথা নিয়ে পুনর্বিবেচনা না করা হলে আগামী দিনে জেলাজুড়ে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এছাড়া আগামী ১৬ তারিখ নির্বাচন কমিশনের দফতর অভিযানেরও ডাক দিয়েছে সংগঠনটি, যেখানে সারা রাজ্যের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী অংশ নেবেন বলে দাবি করা হয়েছে।