নিউজ ফ্রন্ট, ১১ সেপ্টেম্বর, নয়াদিল্লি
দিল্লি পুলিশের বিশেষ সেল এক বৃহৎ সন্ত্রাস মডিউলের রহস্য ফাঁস করেছে। দেশজুড়ে সক্রিয় এই জঙ্গি মডিউলের পাঁচজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের বয়স ২০ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই পাঁচজনকে দিল্লি, ঝাড়খণ্ড, তেলেঙ্গানা এবং মধ্যপ্রদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আশার দানিশকে রাঁচি থেকে, সুফিয়ান আবু বাকার খান ও আফতাব আনসারি নামে দুজনকে দিল্লি থেকে, হুজেইফ ইয়েমেনকে তেলেঙ্গানার নিজামাবাদ থেকে এবং কামরান কুরেশিকে মধ্যপ্রদেশের রাজগড় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে আইইডি (Improvised Explosive Devices) তৈরির বিপুল পরিমাণ উপকরণ, অস্ত্রশস্ত্র এবং কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ডিজিটাল ডিভাইস, যা দিয়ে তারা যুবসমাজকে অনলাইনে প্রভাবিত ও জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য প্রলুব্ধ করত
পুলিশের দাবি
আশার দানিশ পাকিস্তান-সমর্থিত এক হ্যান্ডলারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখত। এই মডিউলের উদ্দেশ্য ছিল প্রথমে ‘খিলাফত’ ধাঁচের সংগঠন তৈরি করা এবং পরে ‘গজওয়া-এ-হিন্দ’ স্টাইলে জিহাদ শুরু করা। তরুণদের বিভ্রান্ত ধারণার মাধ্যমে উগ্রপন্থার পথে টেনে আনা হচ্ছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টার্গেট কিলিং-এর কথাও উঠে এসেছে তদন্তে।
তদন্তে আরও কী জানা গেল?
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে মোট ১১ জনকে নজরদারিতে আনা হয়েছিল, তাদের মধ্যে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই জঙ্গিরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করত। পাকিস্তান-সমর্থিত হ্যান্ডলারটি নিজেকে বাইরে থেকে একটি পেশাদার কোম্পানির সিইও হিসেবে পরিচয় দিত। আবার ভিতরের দলে তাকে ‘গজওয়া লিডার’ নামে ডাকা হতো।
অতিরিক্ত সিপি কুশওয়াহ জানান, এই তরুণরা অত্যন্ত র্যাডিকালাইজড এবং বিপজ্জনক পরিকল্পনা করছিল। তারা জমি কেনার পরিকল্পনাও করেছিল এনজিওর ছদ্মবেশে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, এই জঙ্গি মডিউল ভেঙে দেওয়া দেশের নিরাপত্তার জন্য এক বড় সাফল্য। তদন্তকারীরা এখন ধৃতদের আন্তর্জাতিক যোগসূত্র এবং অর্থের উৎস খতিয়ে দেখছেন।