কান্দিতে SIR আতঙ্কে মৃত্যু: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পরিবারকে সহায়তা

নিউজ ফ্রন্ট, কান্দি, মুর্শিদাবাদ:

SIR নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া আতঙ্কের মাঝে কান্দির বাগডাঙ্গা এলাকার যুবক মোহন সেখের আত্মহত্যা এখনও স্তব্ধ করে রেখেছে স্থানীয় মানুষজনকে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পরও পরিবারের মধ্যে শোকের আবহ একই রকম গভীর। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের এই বাসিন্দার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারানোর যন্ত্রণা নয়, ভোটার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তির কতটা ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে, সেই বাস্তবতাও সামনে এনে দিয়েছে।

পরিবার জানিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নিজের নাম নেই জানতে পেরে মোহন সেখের মনে চরম হতাশা তৈরি হয়। তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে তালিকায় নাম না থাকলে হয়তো তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হবে। দিনদিন ভয় বাড়তে থাকে। পরিবারের সদস্যদের অনেকে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি মানসিক চাপ থেকে বেরোতে পারেননি। কয়েকদিন আগে পাড়ার মাঠে কিটনাশক খেয়ে জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই রাস্তায় মৃত্যু হয় তাঁর।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর শুক্রবার দুপুরে মোহন সেখের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে কান্দিতে যান তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো প্রতিনিধি দল। অভিষেক আগেই ঘোষণা করেছিলেন, SIR আতঙ্কে যেসব মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, তৃণমূল তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে।

আজ সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে মৃতের বাড়িতে পৌঁছন তৃণমূলের আইটি সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য। পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি জানান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দেবাংশু ভট্টাচার্য পরিবারকে প্রাথমিক আর্থিক সহায়তাও তুলে দেন।

সঙ্গে ছিলেন কান্দির বিধায়ক এবং বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার। তিনি বলেন, “এভাবে ভুল তথ্য বা আতঙ্কে আর কোনও পরিবারকে ভেঙে পড়তে দেওয়া যায় না। পরিবারের পাশে আমরা আছি এবং থাকব।” তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানান, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিভ্রান্তি আর না ছড়ায়।

SIR নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তার এক অন্ধকার দৃষ্টান্ত হয়ে রইল কান্দির এই ঘটনা। তবে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্তরে উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *