নিউজ ফ্রন্ট, মুর্শিদাবাদ, ৩ নভেম্বরঃ
দুপুরবেলা সামান্য কিছুক্ষণের জন্য প্রতিবেশীর বাড়ি গিয়েছিলেন গৃহবধূ হাসি দে। কিন্তু বাড়ি ফিরে যা দেখলেন, তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। আলমারির লকার ভাঙা, উধাও নগদ টাকা ও সোনার গয়না। এই ঘটনাই নড়েচড়ে বসিয়েছে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার পুলিশকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার জট খুলে গেল। চুরির ঘটনায় জড়িত চার বানজারা মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ সোনা-রূপো ও কয়েকটি মোবাইল ফোনও।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ ভরতপুর থানার আমলাই কালিতলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা রামকৃষ্ণ দে-র স্ত্রী হাসি দে প্রতিবেশীর বাড়ি যান ব্যক্তিগত কাজে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরে এসে দেখেন, ঘরের আলমারির তালা ভাঙা এবং গয়নাগাটি উধাও। চুরি গেছে দুই জোড়া সোনার পলা, একজোড়া বালা, দুটি আংটি, একজোড়া কানের দুল, একটি নাকফুল, একটি হার ও নগদ সাত হাজার টাকা।

পরের দিনই তিনি ভরতপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩০৫(এ) অনুযায়ী মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে নেমে স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ জানতে পারে, ঘটনার দিন দুইজন অচেনা বানজারা মহিলা এলাকাজুড়ে সন্দেহজনকভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ অভিযান চালায়।
পরে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে চার বানজারা মহিলা। ধৃতরা হল চন্দ্রাবতী দেবী (৪০), তরনী বেদ (১৮), চাঁদনি বেদ (২২), এবং পার্বা বেদ (২১)। ধৃত চারজনই ঝাড়খণ্ডের জামতাড়া জেলার হলুদকালানি গ্রামের বাসিন্দা। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করে চুরি যাওয়া সমস্ত সোনার গয়না, মোট ৪০ গ্রাম সোনা, ১৯৭ গ্রাম রূপোর অলঙ্কার এবং ৪টি মোবাইল ফোন। পুলিশ মনে করছে, মোবাইল ফোনগুলি রাজ্যের অন্য জায়গা থেকেও চুরি হতে পারে।
ভরতপুর থানার পুলিশ চারজনকেই গ্রেফতার করে কান্দির মাননীয় এসি.জে.এম.-এর আদালতে তোলে এবং দশ দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানায়। কান্দির এসডিপিও শাশ্রেক আম্বরদর সাংবাদিক বৈঠকে জানান, “তদন্তের সূত্রে ধৃতদের কার্যকলাপ সন্দেহজনক মনে হয়। আমরা তাদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া সমস্ত মাল উদ্ধার করেছি। এই চক্র রাজ্যের একাধিক জায়গায় একই পদ্ধতিতে চুরি চালাত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, প্রায়ই শিশুকে কোলে নিয়ে কিছু মহিলা এলাকা ঘুরে বেড়ান। ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে তারা তথ্য সংগ্রহ করে, তারপর চুরি করে পালিয়ে যান। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ধৃতরা এমনই একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, এই চক্রটি মুর্শিদাবাদ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা ও রাজ্যগুলোতে সক্রিয় থাকতে পারে। তদন্তে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করল, বাচ্চা কোলে পথে ঘুরে বেড়ানো মহিলারা কেবল ভিক্ষাবৃত্তি নয়, বরং অনেক সময় বড় কোনো অপরাধ চক্রের অংশ হতে পারে।