নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লীঃ সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত মামলার শুনানি আজ ফের শুরু হয়েছে। বিচারপতি সঞ্জয় কারল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের তরফে সওয়াল করেন সিনিয়র আইনজীবী রাকেশ দ্বিবেদী।
মহার্ঘ ভাতা মৌলিক অধিকার নয়: রাকেশ দ্বিবেদী
রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী দ্বিবেদী দাবি করেন, “মহার্ঘ ভাতা কোনও সরকারি কর্মচারীর মৌলিক অধিকার নয়। এটি রাজ্য সরকারের বিবেচনার বিষয়। রাজ্য সরকার তার আর্থিক সামর্থ্য অনুযায়ী DA দিতে পারে, কিন্তু আদালত এই বিষয়ে নির্দেশ দিয়ে রাজ্যকে বাধ্য করতে পারে না।”
এই দাবির সমর্থনে তিনি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের একটি পূর্বতন রায় উল্লেখ করেন।
দ্বিবেদী আদালতে জানান, ২০০৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত রোপা আইন মেনে পঞ্চম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী DA প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, “রাজ্য সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের সমান হারে মহার্ঘ ভাতা পাবেন — এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।”
রাজ্যের তরফে এও জানানো হয়, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া DA-এর ২৫ শতাংশ মেটাতে গেলে রাজ্যকে বিপুল অর্থের সংস্থান করতে হবে। এই অর্থ জোগাড় করতে আরও সময় প্রয়োজন। তবে রাজ্যের সেই সময় চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়ে শীর্ষ আদালত শুনানি মাত্র একদিন পিছিয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্ট যে সময়সীমার মধ্যে ২৫ শতাংশ বকেয়া DA মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল, তা মানা হয়নি। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
এই মামলার রায় রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীর ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে। কেন্দ্রীয় হারে DA না মেলার প্রতিবাদে বারবার আন্দোলনে নেমেছেন কর্মচারী সংগঠনগুলি। এখন দেখা যাক, সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় কোন পথে হাঁটে।