নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ২৬ অক্টোবর
বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হচ্ছে। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) জানিয়েছে, এই ঘূর্ণিঝড় আগামীকালই শক্তি সঞ্চয় করে পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় তা ‘তীব্র ঘূর্ণিঝড়’-এর রূপ নেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিস্টেমটি উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবারের মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে। সম্ভাব্য আঘাতের স্থান হিসেবে মাচিলিপটনম থেকে কলিঙ্গপটনমের মধ্যবর্তী এলাকা, বিশেষত কাকিনাডার উপকূলকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আগামী দু’ থেকে চারদিন ধরে অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, দক্ষিণ ওড়িশা, ছত্তীসগড় এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৯০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
আবহাওয়া দপ্তর মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পশ্চিম ও মধ্য অংশে এবং তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে সমুদ্রে গিয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে উপকূলে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় “মোন্থা”র সম্ভাব্য তাণ্ডবের আগে থেকেই প্রশাসন প্রস্তুত হচ্ছে। শনিবার জাতীয় সঙ্কট ব্যবস্থাপনা কমিটির (NCMC) একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিব টি. ভি. সোমনাথন, এবং তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, পুদুচেরি ও ওড়িশার মুখ্যসচিবরা। তাঁরা জানান, রাজ্য প্রশাসন ও দুর্যোগ মোকাবিলা দল (NDRF, SDRF) ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং উপকূলবর্তী জেলা গুলিতে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
এদিকে কলকাতায় আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা ৩৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ২৪.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসবে। তবে ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকবে। এই সময়ে ঘণ্টায় প্রায় ৫৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। তাই এই তিন দিনে সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ পুনরায় দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
আবহবিদদের আশঙ্কা, ঘূর্ণিঝড় মোন্থা অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব ভারতের উপকূলীয় এলাকায় প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে জনজীবনে বিঘ্ন ঘটতে পারে। রাজ্য প্রশাসনকে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।