নিউজ ফ্রন্ট, জম্মু | ৭ অক্টোবর ২০২৫
সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেল জম্মু সাইবার পুলিশ। ₹৪.৪৪ কোটি টাকার এক বিশাল সাইবার প্রতারণা চক্রের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে Cyber Police Station Jammu। এই ঘটনায় গুজরাটের সুরাট থেকে তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার জম্মুর জেলা পুলিশ লাইনে সাংবাদিক বৈঠকে বিষয়টি ঘোষণা করেন এসএসপি জম্মু জোগিন্দর সিংহ। তিনি জানান, এই অভিযানটি পরিচালিত হয় সাইবার পুলিশ স্টেশন জম্মুর পুলিশ সুপার কামেশ্বর পুরী-র তত্ত্বাবধানে এবং ডিএসপি রোহিত চাদগল-এর তদন্তে।
কীভাবে ঘটল প্রতারণা?
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ, যখন এক ব্যক্তি সাইবার পুলিশ স্টেশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একদল সাইবার অপরাধী তাঁকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়ো পরিচয়ে ভয় দেখিয়ে প্রতারণা করে ₹৪.৪৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর আধার কার্ড ও সিম নম্বরের তথ্য ব্যবহার করে তাকে “মানি লন্ডারিং”-এর ভুয়ো অভিযোগে অভিযুক্ত বলে জানায়। এরপর ভুক্তভোগীকে “ডিজিটাল অ্যারেস্ট (Digital Arrest)”-এর নামে ভয় দেখিয়ে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ₹৪,৪৪,২০,০০০ টাকা স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পরই জম্মু সাইবার পুলিশের বিশেষ টিম শুরু করে গভীর অনুসন্ধান।
🔹 ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ট্রেইল খতিয়ে দেখা হয়,
🔹 ট্রান্সাকশন অ্যানালাইসিস করা হয়,
🔹 এবং অভিযুক্তদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট অনুসরণ করা হয়।
তদন্তে জানা যায়, এই প্রতারণা চক্রটির কেন্দ্র গুজরাট রাজ্যের সুরাটে অবস্থিত।
বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাওয়ার পর, পুলিশের বিশেষ দল সুরাটে হানা দেয় এবং গ্রেপ্তার করে তিনজনকে।
গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তরা হল: চৌহান মনীশ অরুণভাই, আশ ভিথান এবং কিশোরভাই করমশি দেউরিয়া
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে তিনজনকেই জম্মুতে নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারে, যারা দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে রয়েছে।
এসএসপি জোগিন্দর সিং বলেন, “এটি একটি সুপরিকল্পিত সাইবার জালিয়াতির ঘটনা। অভিযুক্তরা প্রযুক্তি ও মানসিক ভয় দেখানোর মাধ্যমে মানুষকে প্রতারিত করছিল। আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হয়েছি।” তিনি আরও জানান, “গুজরাট থেকে গ্রেপ্তার তিনজনের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বড় কোনও সাইবার চক্রের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।”
পুলিশ প্রশাসন সাধারণ নাগরিকদের সতর্ক করে দিয়েছে—
- কোনও অচেনা কল বা মেসেজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাম শুনে ভয় না পেতে,
- কোনও পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার বা ওটিপি শেয়ার না করতে,
- এবং প্রতারণার সন্দেহ হলে সঙ্গে সঙ্গে সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন ১৯৩০-এ যোগাযোগ করতে।