কটকে ৩৬ ঘণ্টা পর স্বস্তি, কার্ফুতে মিলল আংশিক শিথিলতা

কটক, ৭ অক্টোবর, ২০২৫:
ওড়িশার কটক শহরে টানা ৩৬ ঘণ্টা কার্ফু জারির পর মঙ্গলবার সকাল থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে জীবনযাত্রা। দোকানপাট খুলেছে, রাস্তায় মানুষজন দেখা যাচ্ছে— তবে প্রশাসনের কড়া নজরদারিতে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো সহিংসতার খবর না মেলায় প্রশাসন কার্ফুতে আংশিক শিথিলতা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন কটক কমিশনারেট পুলিশের কমিশনার এস দেব দত্ত সিংহ।

তিনি জানান, শনিবার ও রবিবার ধারাবাহিক দুটি সংঘর্ষের জেরে ৫ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ৭ অক্টোবর সকাল ১০টা পর্যন্ত কার্ফু জারি করা হয়েছিল। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে তা বাড়ানো হয়নি। তবে প্রশাসন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি যে কার্ফু সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে কিনা।

শনিবার রাতে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন মিছিল চলাকালীন দর্গা বাজার এলাকায় প্রথম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ছ’জন আহত হন। এরপর রবিবার বিকেলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) একটি মোটরবাইক র‍্যালি সংবেদনশীল এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। সেই সময় ফের পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে, যাতে প্রায় ২৫ জন আহত হন— এর মধ্যে দশজন পুলিশ কর্মীও রয়েছেন।

দু’দিনের সংঘর্ষে বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। ১৩টি থানার অন্তর্গত সংবেদনশীল এলাকায় — যেমন দর্গা বাজার, মঙ্গলবাগ, ক্যান্টনমেন্ট, পুরীঘাট, লালবাগ, বিদ্যানসি, মার্কটনগর, সিডিএ ফেজ-২, মালগোদাউন, বাদামবাড়ি, জগতপুর, বেয়াল্লিশ মৌজা এবং সদর এলাকায় কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শহরে ৫০টি প্লাটুন পুলিশ (প্রায় ১,৫০০ জন কর্মী) এবং আটটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর কোম্পানি, যার মধ্যে রয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF), মোতায়েন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, গুজব রুখতে এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রশাসন মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রেখেছে। ওড়িশা পুলিশ নাগরিকদের প্রতি আবেদন জানিয়েছে— কোনো তথ্য যাচাই না করে যেন সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু শেয়ার না করেন, এবং উত্তেজনামূলক বা ভুয়ো তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকেন।

প্রশাসনের মতে, পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি জোরদার রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আবারও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *