গঠন হচ্ছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল
নিউজ ফ্রন্ট, নয়া দিল্লি | ১০ মার্চ, ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে এবার বেনজিরভাবে কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া এবং সেই সংক্রান্ত লক্ষ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তির মন্থর গতি দেখে কমিশনকে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি জানান, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষ ১৬ হাজার আপত্তি ও দাবি নিষ্পত্তি হয়েছে । বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা নিরলসভাবে এই বিশাল সংখ্যক আবেদনের স্ক্রুটিনি বা পরীক্ষা করছেন। তবে এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাব রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেয় আদালত।কমিশনের ওয়েব পোর্টালে দীর্ঘদিন ধরে যে প্রযুক্তিগত সমস্যা চলছে, তা অবিলম্বে দূর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটার তালিকা পরীক্ষার কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের পরিকাঠামো ও প্রশাসনিক সাহায্য দিতে হবে। যে সমস্ত ভোটারদের দাবি বা আপত্তি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা সঠিক বলে মেনে নিয়েছেন, তাদের নাম দ্রুত ‘সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট’-এর মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। এই বিষয়ে উপযুক্ত নির্দেশের জন্য আবেদনকারীদের কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির দ্বারস্থ হতে বলা হয়েছে। যাঁদের আবেদন বা দাবি বিচারবিভাগীয় স্তরে খারিজ হয়ে গেছে, তাঁরা যেন সুবিচার পান তার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হবে। এই ট্রাইব্যুনালে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বা বর্তমান বিচারপতিরা শুনানির দায়িত্ব সামলাবেন। নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি (Notification) জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনার ক্ষেত্রে এক বিশাল পদক্ষেপ। বিশেষ করে ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষের নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন যেখানে জড়িয়ে, সেখানে আদালতের এই হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।আদালতের নির্দেশের পর এখন সবার নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে। এই বিশাল সংখ্যক আবেদন কত দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় এবং আপিল ট্রাইব্যুনাল কবে থেকে কাজ শুরু করে, সেটাই দেখার।