নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কয়লা পাচার মামলার তদন্ত ঘিরে রাজ্য বনাম কেন্দ্র সংঘাত এবার পৌঁছে গেল বিচারালয়ের চৌকাঠে। বৃহস্পতিবার আই-প্যাক (I-PAC) ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে গুরুতর অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছে ইডি। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, খোদ মুখ্যমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত হয়ে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে ফেলেছেন। এই ‘বেআইনি’ বাধার প্রতিকার চেয়ে ইডি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসের দ্বারস্থ হয়েছে।
ইডি-র দাবি, অনুপ মাজি ওরফে ‘লালা’-র কয়লা পাচার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত একজন হাওলা অপারেটর কোটি কোটি টাকা আই-প্যাকের (I-PAC) অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন। ২০২০ সালের সিবিআই এফআইআর-এর ভিত্তিতে চলা এই আর্থিক তছরুপের তদন্তে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লিতে মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটির বিবৃতিতে যে অভিযোগগুলি আনা হয়েছে তা এককথায় নজিরবিহীন। ইডি-র দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিজের সাথে নিয়ে যান। প্রতীক জৈনের বাড়ির পর মুখ্যমন্ত্রী আই-প্যাকের সল্টলেক অফিসেও যান। সেখানেও তাঁর নির্দেশে পুলিশ আধিকারিকরা তল্লাশিতে বাধা দেন এবং বহু ফিজিক্যাল ডকুমেন্ট ও ইলেকট্রনিক এভিডেন্স ‘জোর করে’ সরিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ। ইডি জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও কলকাতা পুলিশ কমিশনারের এই পদক্ষেপের ফলে প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর আওতায় চলা আইনি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।
রাজ্যের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলা হলেও ইডি তা অস্বীকার করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই অভিযান সম্পূর্ণভাবে প্রমাণভিত্তিক এবং কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নয়। কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়নি। এই তদন্তের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই, এটি কয়লা পাচারকাণ্ডের একটি নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়া মাত্র।
ইডি-র এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে আগামীকাল শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি চায়, তদন্তে বাধার দেওয়ার ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ এবং সরিয়ে ফেলা নথিপত্র উদ্ধারের নির্দেশ।