নয়াদিল্লি, ২ মার্চ: ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে। সোমবার ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস (IRGC) ইজরায়েল লক্ষ্য করে শত শত মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে এক ‘বিশাল মাপের’ (Large-scale) হামলা শুরু করেছে। এই হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের সাম্প্রতিক মিসাইল বর্ষণে জেরুসালেম এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। জেরুসালেম জেলা দমকল বাহিনী জানিয়েছে, একটি প্রধান হাইওয়ের ওপর মিসাইল আছড়ে পড়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে আকাশপথেই ধ্বংস করা মিসাইলের টুকরো বা ইন্টারসেপ্টর ফ্র্যাগমেন্ট ছড়িয়ে পড়েছে, যা খুঁজে বের করার কাজ চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে ইজরায়েল সরকার দেশজুড়ে কঠোর সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সমস্ত পাবলিক গ্যাদারিং বা জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল, কলেজ এবং কর্মস্থল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে হাসপাতালের রোগীদের মাটির নিচের সুরক্ষিত ওয়ার্ডে (Underground facilities) সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মিসাইল ঠিক কোথায় কোথায় আঘাত হেনেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ কত, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে সংবাদমাধ্যমের ওপর কড়া সামরিক সেন্সরশিপ জারি করা হয়েছে।
ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তারা প্রায় ১ লক্ষ রিজার্ভ সৈন্য (Reservists) তলব করেছে। যুদ্ধের প্রস্তুতি তুঙ্গে তুলে বিভিন্ন ফ্রন্টে সেনা মোতায়েন বাড়ানো হচ্ছে। ইজরায়েলি সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে এবং পাল্টা আঘাত হানতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
ইরানের এই ‘বিশাল’ হামলার পর ইজরায়েলের পাল্টা পদক্ষেপ কী হয়, তার ওপর নির্ভর করছে পুরো বিশ্বের শান্তি। জ্বালানি তেলের বাজারে ইতিপূর্বেই অস্থিরতা শুরু হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে কূটনীতির মঞ্চে ইরানকে দমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলো।