বইমেলা বন্ধের নজির থাকলেও এখনই বন্ধ হচ্ছে না সার্কাস, পার্ক সার্কাস ময়দান নিয়ে শর্তসাপেক্ষ নির্দেশ হাইকোর্টের

নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা:

পার্ক সার্কাস ময়দানে চলা সার্কাস এখনই বন্ধ করার পক্ষপাতী নয় কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার এক জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এখনই সার্কাস বন্ধের কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না। তবে এই আয়োজনের ফলে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কি না এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলে। আদালত মামলাকারীকে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সার্কাস বন্ধ করার সপক্ষে প্রয়োজনীয় যুক্তি ও তথ্যসহ একটি হলফনামা জমা দিতে হবে। বিশেষ করে, সার্কাসের কারণে পরিবেশ দূষণ কতটা হচ্ছে, সেই বিষয়ে মামলাকারীকে তাঁর বক্তব্য হলফনামায় উল্লেখ করতে বলা হয়েছে। শুনানির সময় ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, সার্কাসের তাঁবু যে অংশে রয়েছে তা বাদ দিয়ে পার্ক সার্কাস ময়দানের বাকি অংশ যেন ফাঁকা থাকে। বিশেষ করে সকালে যারা ওই ময়দানে হাঁটতে যান (Morning Walkers), তাঁদের সুবিধার্থে যাতে কোনো বাধা না থাকে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়েছেন, সার্কাস বন্ধ না করা হলেও পরিবেশের সুরক্ষার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। কলকাতা পুরসভাকে (KMC) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সার্কাস চত্বরে যেন পরিবেশের কোনো ক্ষতি না হয় এবং ময়দান নোংরা না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন যে, পার্ক সার্কাস ময়দানের মতো ঘিঞ্জি এলাকায় এই ধরনের আয়োজন পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি ২০০৮ সালের একটি ঐতিহাসিক রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে পরিবেশ দূষণের আশঙ্কায় এই একই ময়দানে কলকাতা বইমেলা বন্ধ করে দিয়েছিল হাইকোর্ট। আইনজীবীর দাবি, সার্কাসের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভা সম্প্রতি একটি সার্কাস কোম্পানিকে দুই মাসের জন্য পার্ক সার্কাস ময়দান ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। মামলাকারীদের যুক্তি ছিল, যেখানে পরিবেশের স্বার্থে বইমেলা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে সার্কাসের অনুমতি দেওয়া অযৌক্তিক। কলকাতা হাইকোর্টের শীতকালীন ছুটির পর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। ততদিন পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে সার্কাস চালানোয় কোনো বাধা রইল না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *