ত্রিপুরার শিক্ষাজগতে নতুন দিগন্ত: মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা উদ্বোধন করলেন টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা ক্যাম্পাস

কলকাতা, ১৪ নভেম্বর ২০২৫: ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষা পরিকাঠামোয় বড় পদক্ষেপ নিল টেকনো ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি, ত্রিপুরা (TIUT)। শুক্রবার আগরতলার মহেশখোলার টেকনো ইন্ডিয়া নলেজ ক্যাম্পাসে নবনির্মিত ভবন ও একাধিক সুবিধার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ড.) মানিক সাহা। তাঁর উপস্থিতিতেই অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বৈশিষ্ট্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সমগ্র কর্মসূচি।

TIUT ত্রিপুরা অ্যাক্ট নং ৪ (২০২৩)-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের এক মহতী উদ্যোগ। শুক্রবারের অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রাপথে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করে। দিনের প্রথম পর্বে ছিল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ঘোষণা, আর দ্বিতীয় পর্বে ছিল সংস্কৃতি, সম্প্রদায় ও ছাত্র–ছাত্রীদের অংশগ্রহণে ভরপুর এক রঙিন আয়োজনে ক্যাম্পাস আলোকসজ্জা।

সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে অতিথি অভ্যর্থনার মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ড.) মানিক সাহা ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা, পঞ্চায়েত ও জি.এ (পলিটিক্যাল) দপ্তরের মন্ত্রী শ্রী কিশোর বর্মন।

অধ্যাপক সত্যম রায়চৌধুরী, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং TIUT–এর মাননীয় আচার্য, গোটা কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। তাঁর উদ্যোগে ত্রিপুরায় উচ্চশিক্ষার আধুনিক পরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় হয়।

দিনের প্রথম সেশনে উদ্বোধন করা হয় TIUT–এর অ্যাকাডেমিক ব্লক–ডি, টিআইইউটি রবীন্দ্র লাউঞ্জ এবং রক্তদান শিবির। ক্যাম্পাসে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণও করা হয়। ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন প্রকল্প প্রদর্শনী, ঐতিহ্যবাহী খাদ্য স্টলও ছিল বিশেষ আকর্ষণ।

একই সঙ্গে প্রকাশিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনা— মণ্ডলা, TIUT টাইমস, এবং OBE & Skillsets: Theory to Practice
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় গার্লস হোস্টেল, বয়েজ হোস্টেল, অডিটোরিয়াম, ভিসি’স বাংলো এবং স্টাফ রেসিডেনশিয়াল ব্লকের। অনলাইনে উদ্বোধন হয় ওপেন জিম এবং ওপেন থিয়েটারের। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU)-ও বিনিময় হয়।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, ক্যাম্পাসের নতুন সুবিধাগুলির উদ্বোধন শুধুমাত্র আরেকটি প্রশাসনিক ধাপ নয়, এটি ত্রিপুরার শিক্ষাক্ষেত্রে এক বড় অগ্রগতি। তিনি জানান, উচ্চশিক্ষার চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে এবং টেকনো ইন্ডিয়া নলেজ ক্যাম্পাসে এখন বিভিন্ন রাজ্যের প্রায় ২,৫০০ ছাত্রছাত্রী পাঠরত, যা এই অগ্রগতির স্পষ্ট প্রমাণ।

তিনি আরও জানান, ত্রিপুরার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর লক্ষ্য ও নির্দেশিকা গ্রহণে যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে, যা রাজ্যের ভবিষ্যৎ শিক্ষার ভিত্তিকে আরও মজবুত করবে।

অধ্যাপক সত্যম রায়চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে জানান, ত্রিপুরার সঙ্গে টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সম্পর্ক বহু পুরনো। ১৯৮৮ সালে রাজ্যে প্রথম কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন থেকে আজকের এই বৃহৎ বিশ্ববিদ্যালয়-যাত্রাপথে এই অগ্রগতি তাঁদের কাছে গর্বের। তিনি ত্রিপুরা সরকার, মুখ্যমন্ত্রী, বিভিন্ন দপ্তর এবং রাজ্যের মানুষের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপের সহ-চেয়ারপার্সন অধ্যাপক মনশী রায়চৌধুরী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি নির্ভর করে বই বা পরীক্ষার বাইরে নতুন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশ সচেতনতা, গবেষণা এবং যোগ্য প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর। এর সবগুলোই TIUT এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

বিকেল ৩টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্যাম্পাস আলোকসজ্জা। প্রধান অতিথি ছিলেন ত্রিপুরার বিদ্যুৎ, কৃষি, আইন ও নির্বাচন দপ্তরের মন্ত্রী শ্রী রতনলাল নাথ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য প্রফেসর (ড.) অরুণোদয় সাহা, এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন আগরতলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি শ্রী প্রণব সরকার।

এই পর্বে উদ্বোধন করা হয় ৩৩ কেভি ডুয়াল-ফিডিং ইনডোর সাবস্টেশন-যা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও নির্ভরযোগ্য করবে এবং ভবিষ্যতের সম্প্রসারণে সহায়তা করবে।

TIUT–এর এই বৈপ্লবিক উন্নয়ন ও পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষার চিত্র বদলে দেবে বলে মনে করছেন সকলেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশা, আগামী দিনে TIUT শুধু রাজ্যের নয়, সমগ্র পূর্বোত্তর ভারতের এক শীর্ষস্থানীয় জ্ঞানকেন্দ্র হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *