নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা, আগস্ট ২০: রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার চূড়ান্ত বিপাকে রাজ্যের কারা ও ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিন্হা। এই মামলায় তার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য রাজ্যপাল ড. সিভি আনন্দ বোস চার্জশিটে অনুমোদন দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) আজ আদালতে এই খবর জানানোর পরই তার বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর আদালতে তাকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইডি ইতিমধ্যেই কলকাতার বিশেষ সিবিআই আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছিল, তবে সংবিধান অনুযায়ী কোনও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করতে রাজ্যপালের অনুমোদন অপরিহার্য। সেই অনুমোদন না থাকায় এতদিন মামলা ঝুলে ছিল। রাজভবনের সিলমোহরের পর এবার আর কোনো বাধা রইল না।
প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত হয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়,যুব তৃণমূল নেতা কুন্তল ঘোষ, ব্যবসায়ী সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকুসহ একাধিক প্রভাবশালী নাম। এবার সেই তালিকায় আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিন্হা।
ইডি সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক নিয়োগ কেলেঙ্কারির তদন্তে বাগদার তৃণমূল নেতা (বর্তমানে বহিষ্কৃত) কুন্তল ঘোষের সূত্র ধরেই চন্দ্রনাথ সিন্হার নাম উঠে আসে। এরপর মন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়, যার কোনো বৈধ হিসেব তিনি দিতে পারেননি বলে অভিযোগ। ইডি-র অনুমান, ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে মন্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যে দেড় কোটি টাকা জমা পড়েছিল, তার উৎসও সন্দেহজনক। ইডি মূলত এই বিপুল অর্থের উৎসই খতিয়ে দেখছে।
২০১১ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে চন্দ্রনাথ সিন্হার সম্পদের পরিমাণ প্রায় চার গুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১১ সালের নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী তার মোট সম্পদ ছিল ৭৫ লক্ষ ৫৩ হাজার ৮৪২ টাকা, যা ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩৪ লক্ষ ১১ হাজার ৪১৪ টাকায়। অর্থাৎ, মাত্র ১০ বছরে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ৫৮ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫৭২ টাকা বেড়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির বৃদ্ধি তদন্তকারীদের কাছে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এর আগে দু’বার ইডি-র তলব এড়িয়ে গিয়েছিলেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ। সম্প্রতি তিনি ইডি-র মুখোমুখি হন। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত শুরুর পর থেকেই ক্ষমতার অপব্যবহার, বিপুল অর্থ লেনদেন ও বেআইনি নিয়োগের অভিযোগ উঠে এসেছে। মন্ত্রীর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল অর্থ জনমানসে ক্ষোভ তৈরি করেছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, শাসক দলের মদত ছাড়া এত বড় দুর্নীতি সম্ভব ছিল না। এখন প্রশ্ন উঠেছে, পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো চন্দ্রনাথ সিন্হারও কি ঠাঁই হবে জেলের গারদে?
রাজ্যপালের অনুমোদনের পর আদালতের নির্দেশ, চন্দ্রনাথ সিন্হাকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন নজর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ ও মন্ত্রীর অবস্থানের ওপর।