কালিগঞ্জে তৃণমূলের বিজয়োল্লাসে বোমা বিস্ফোরণ, মৃত ১৩ বছরের কিশোরী

নিউজ ফ্রন্ট, নদীয়া, ২৩ জুন: কালিগঞ্জ উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল জয়ের আনন্দ ম্লান করে দিল এক মর্মান্তিক ঘটনা। বিজয় মিছিলে বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারাল ১৩ বছর বয়সী তামান্না খাতুন। চতুর্থ শ্রেণির এই ছাত্রীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে গোটা এলাকায়। অভিযোগ জয়ের আনন্দে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতিদের ছোড়া বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় ওই কিশোরীর।

উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ ১,০২,৭৫৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী আশীষ ঘোষ পেয়েছেন মাত্র ৫২,৭১০ ভোট। প্রায় ৫০,০০০ ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়েছে তৃণমূল। প্রয়াত বিধায়ক নাসিরউদ্দিন আহমেদের কন্যা আলিফা এই আসন থেকে জয়ী হলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১টা নাগাদ ভোটগণনায় তৃণমূলের এগিয়ে থাকার খবর আসার পর মোলান্দি পূর্বপাড়ায় বিজয় মিছিল বের হয়। এই সময় দুষ্কৃতীরা বোমাবাজি শুরু করে। একটি বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হয় মোলান্দি বেলেপাড়ার হোসেন শেখের কন্যা তামান্না। তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

নদীয়া জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা  হলেন – আদার শেখ, কালু শেখ, মনোয়ার শেখ এবং আনোয়ার শেখ।

পুলিশকে খুব দ্রুত  আইনি ব্যবস্থা নিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: “কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার বড়চাঁদগড়ে বিস্ফোরণে এক কিশোরীর মৃত্যুতে আমি মর্মাহত ও গভীরভাবে দুঃখিত। এই শোকের মুহূর্তে পরিবারের প্রতি আমার প্রার্থনা ও সমবেদনা রইল। দোষীদের বিরুদ্ধে পুলিশ দ্রুততম সময়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।”

এই নির্মম হত্যা কাণ্ড নিয়ে বিরোধীরা একযোগে নিশানা করেছে শাসকদলকে

বিজেপি আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য: এক্স-এ লিখেছেন, “কালিগঞ্জে তৃণমূলের বিজয় র‍্যালিতে বোমা ছুড়ে ১৩ বছরের তামান্না খাতুনকে ছিন্নভিন্ন করে দেওয়া হল। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিংসাত্মক, ভোট ব্যাংকের রাজনীতির রক্তের মূল্য।”

বিজেপি রাজ্য সভাপতি ডঃ সুকান্ত মজুমদার: “হ্যাঁ, বোমা! বক্তৃতা নয়, মিষ্টি নয় – উপনির্বাচনে ‘বিজয়ের’ নামে বোমা ছোড়া হয়েছে! কালিগঞ্জে গণনা শেষ হওয়ার আগেই এক নাবালিকা বোমায় উড়ে গেল। শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলায় নির্বাচনী উদযাপন সন্ত্রাসী আক্রমণের মতো দেখতে হতে পারে!”

সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী: “বিজয় উল্লাস মানে প্রাণঘাতী বোমা! বাচ্চা মেয়েটা খুন হয়ে গেল! কুৎসিত বীভৎসতার জয় হয়েছে। এইসব দুষ্কৃতীদের পেছনে পুলিশ, প্রশাসন তার পেছনে পুলিশমন্ত্রী। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, তৃণমূল জেনে বুঝে খুন করেছে।”

কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী: “সবাই দেখল উপনির্বাচন জিতে শাসক দল কী করল। তারা উদযাপন করার সময় তাদের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সিপিএম পরিবারকে আক্রমণ করেছে। তারা একটি সকেট বোমা ছুড়েছিল, যা ছিল একটি ছোট গ্রেনেডের মতো। একটি ছোট মেয়েও প্রাণ হারিয়েছে।”

এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্তিপূর্ণ বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রতিশোধমূলক ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *