লালগোলায় গৃহবধূ ও যুবকের রক্তাক্ত কাণ্ড: ‘পরকীয়া’ না কি ‘দাম্পত্য কলহ’? তদন্তে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, লালগোলা: সাতসকালে বা জনবহুল দুপুরে নয়, একেবারে ভরদুপুরে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঢুকে এক গৃহবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার অন্তর্গত উত্তর সুন্দরগঞ্জ এলাকায়। শুধু গৃহবধূকে আক্রমণই নয়, এরপর অভিযুক্ত যুবক নিজেও আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় বর্তমানে ওই নারী ও পুরুষ— দুজনেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় সূত্রে খবর, আক্রান্ত গৃহবধূর নাম শামীমা খাতুন। তিনি গত তিন মাস ধরে উত্তর সুন্দরগঞ্জের গোল্ডেন ক্লাব সংলগ্ন একটি বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন। তাঁর সঙ্গে থাকত তাঁর দুই সন্তান। সোমবার দুপুর ১টা নাগাদ আচমকাই সেই বাড়িতে চড়াও হয় ওই যুবক, যার নাম সাহিল শেখ। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কোনো কথা কাটাকাটির সুযোগ না দিয়েই সাহিল তাঁর সঙ্গে থাকা ধারালো ‘হাসুয়া’ বের করে শামীমার ওপর এলোপাথাড়ি কোপ চালাতে শুরু করে।
শামীমা রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়লে, সাহিল সেই একই অস্ত্র দিয়ে নিজের শরীরেও একাধিক আঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ঘরের ভেতর থেকে আসা আর্তচিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে গোটা ঘর রক্তে ভাসতে দেখেন। বেগতিক দেখে পালানোর চেষ্টা করলেও সফল হয়নি অভিযুক্ত।

আক্রান্ত গৃহবধূর অভিযোগ, সাহিল শেখ দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক তৈরির জন্য অনৈতিক চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু শামীমা বারবার সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এদিন দুপুরে শামীমা যখন বাড়িতে একা ছিলেন, তখন সাহিল জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে পড়ে। শামীমার বয়ান অনুযায়ী, “আমি ওকে বারবার বলেছিলাম আমার দুটি সন্তান আছে, আমাদের বিয়ে হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ও জেদ ধরেছিল। শেষে আমাকে মেরে নিজেও মরার চেষ্টা করল।”

খবর পেয়ে লালগোলা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুজনকে উদ্ধার করে। প্রথমে তাঁদের স্থানীয় কৃষ্ণপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর ক্ষত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত সাহিল শেখের বাড়িও কৃষ্ণপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন মাইদাপাড়া এলাকায়। শামীমার স্বামী সাবিরুল শেখের সাথে বর্তমানে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই বলেও জানা গিয়েছে।

ভগবানগোলার SDPO বিমান হালদার জানান “প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি এরা ২ জন স্বামী স্ত্রী আছে। কোনো কারণে ঝামেলা হলে ওরা একে অপরকে হামলা চালায়। এখন ২ জনেই বহরমপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। লিখিত অভিযোগ আসলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।”
বাড়িটি বর্তমানে পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে। ঠিক কী কারণে এবং কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।”
ভরদুপুরে জনবহুল এলাকায় এমন ঘটনায় গোটা উত্তর সুন্দরগঞ্জ এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *