দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ডে ধৃত পাঁচ অভিযুক্তই তৃণমূলের কর্মী  বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপি নেতা অমিত মালব্যের

নিউজ ফ্রন্ট, নয়াদিল্লি, ১৫ অক্টোবর

দুর্গাপুরের ভয়াবহ গণধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য। তিনি দাবি করেছেন, এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন মূল অভিযুক্তের প্রত্যেকেরই তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

অমিত মালব্য ‘এক্স’ (পূর্বতন টুইটার) পোস্টে লিখেছেন, দুর্গাপুরের সাম্প্রতিক গণধর্ষণ পশ্চিমবঙ্গের সেই পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা, যেখানে নারী নিরাপত্তা বারবার পিষ্ট হচ্ছে, আর শাসকদলের আশ্রয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে।”


বিজেপি নেতার দাবি, পাঁচজন অভিযুক্তকেই ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্তে উঠে এসেছে, প্রত্যেকেরই যোগাযোগ রয়েছে দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের নিকটবর্তী বিজিরা গ্রামের স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ধৃত শেখ নাসিরুদ্দিন ও শেখ সাফিকুল তৃণমূলের সক্রিয় কর্মী এবং দলের প্রতি তাঁদের ‘বিশ্বস্ততা’র কারণেই এই অভিযুক্তরা রাজনৈতিক সুরক্ষা পেয়ে এসেছে। রাজ্যে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনায় তৃণমূল নেতাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, প্রশাসনের কাঠামো কতটা পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়েছে।”

অমিত মালব্য তাঁর পোস্টে আরও লেখেন,
আরজিকর হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে কসবা ট্র্যাজেডি, স্যান্ডেশখালির নারকীয় ঘটনা থেকে দুর্গাপুরের এই বিভীষিকাময় গণধর্ষণ  প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। কোনও না কোনও তৃণমূল নেতার প্রভাব, শাসকদলের ছত্রচ্ছায়া, আর প্রশাসনের নীরবতা।”

তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করে বলেন,
প্রত্যেক নৃশংস অপরাধের পেছনে থাকে এক বেপরোয়া তৃণমূল নেতা, যে জানে তার ‘রক্ষাকবচ’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে বাঁচাবেন। এই বেছে নেওয়া নীরবতা ভণ্ড নৈতিকতাই আজ পশ্চিমবঙ্গকে আইনশৃঙ্খলার করুণ অবস্থায় পৌঁছে দিয়েছে।”

অভিযুক্তদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারেও বিতর্ক

উল্লেখযোগ্যভাবে, দুর্গাপুর গণধর্ষণ নিয়ে এর আগেও একবার ভুয়ো দাবি করেছিলেন এই বিজেপি নেতা।
ঘটনার তদন্ত চলাকালেই অভিযুক্তদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে শুরু করেছিলেন বিজেপির একাংশ নেতা ও প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা। অভিযোগ ওঠে, বিজেপির আইটি সেল প্রধান অমিত মালব্য, মুখপাত্র প্রশান্ত উমরাও, এবং নেতা বিষ্ণু বর্ধন রেড্ডি-সহ একাধিক বিজেপি ঘনিষ্ঠ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী ১২ অক্টোবর ‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে দাবি করেন যে, অভিযুক্ত সকলেই মুসলিম। তাঁদের পোস্টে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল  শেখ নাসিম উদ্দিন, শেখ রিয়াজ উদ্দিন, শেখ ফেরদৌস ও শেখ সাফিকুল। কিন্তু পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁরা হলেন
আপু বাউরি (২১), ফিরদৌস শেখ (২৩) এবং শেখ রিয়াজউদ্দিন (৩২)।

বহু বিজেপি নেতা ও ডানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সার তাঁদের পোস্টে ‘আপু বাউরি’-এর নামটি উল্লেখ করেননি, যা জনমনে এমন ধারণা তৈরি করে যে, সকল অভিযুক্তই মুসলিম সম্প্রদায়ের। এই তথ্যটি যে সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর, তা একাধিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট ও পুলিশের অফিসিয়াল বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়েছে।

অল্ট নিউজ এর ফ্যাক্টচেক রিপোর্টে বলা হয়েছে,  “অভিযুক্তদের মধ্যে একজন হিন্দু যুবক (আপু বাউরি) রয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সেই তথ্য গোপন রাখা হয়েছে।”

বিতর্ক ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূল মুখপাত্রদের দাবি, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে “ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি” করছে। অন্যদিকে, বিজেপি পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, “আমরা শুধু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নামগুলোই উল্লেখ করেছি।”

বিজেপির এই অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তোলপাড় শুরু হয়েছে। তৃণমূল সূত্রে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, বিজেপি নোংরা রাজনীতি করছে এবং তদন্তের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে রাজ্যজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে এবং প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
দুর্গাপুরের এই নৃশংস ঘটনার তদন্ত চলছে পুলিশের বিশেষ টিমের অধীনে। অন্যদিকে, বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সংঘাত, যা রাজ্যের নির্বাচনী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *