বারুইপুরে বিজেপি বুথ সভাপতির নৃশংস খুন – প্রকাশ্যে এলো সিসিটিভি ফুটেজ, ক্ষোভে ফেটে পড়ল রাজনৈতিক মহল

নিউজ ফ্রন্টঃ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে বিজেপির বুথ সভাপতি রাজীব বিশ্বাস খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে সেই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, যেখানে নৃশংস আক্রমণের দৃশ্য ধরা পড়েছে। ভিডিও সামনে আসতেই উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল, উঠছে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৮ আগস্ট বারুইপুর পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১২৯ নম্বর বুথ সভাপতি রাজীব বিশ্বাসকে বাড়ির সামনেই বাঁশ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাজীবের বাবা নিতাই বিশ্বাস এবং দাদা সন্দীপ বিশ্বাসই তাঁকে আক্রমণ করছেন। ঘটনায় রাজীবের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। অভিযোগ, পরে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের মাধ্যমে তাঁকে মৃত ঘোষণা করানো হয়।

অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত নিতাই বিশ্বাস ও সন্দীপ বিশ্বাস সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। বিজেপির অভিযোগ, এলাকায় জনসমর্থন হারিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই খুনের পরিকল্পনা করেছিল। নিহতের পরিবার লিখিতভাবে বারুইপুর থানায় জানায়, ঘটনাস্থলে আরও কয়েকজন তৃণমূল কর্মী উপস্থিত ছিল এবং তাঁরাও আক্রমণে অংশ নেয়। যদিও অভিযুক্তদের মধ্যে কেবল রাজীবের বাবা ও দাদাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাকি সক্রিয় তৃণমূল কর্মীরা এখনও অধরা।

ঘটনার পর কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ডঃ সুকান্ত মজুমদার সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় এলাকায় জনসমর্থন না পাওয়ার রাগে তৃণমূলই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। পুলিশ প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে মূল অভিযুক্তদের আড়াল করছে। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে, এটি বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল। তাঁদের বক্তব্য, বিজেপি নিজেদের গোষ্ঠী সংঘর্ষকে রাজনৈতিক রঙ দিচ্ছে।

সিপিআই(এম) নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন “বারুইপুরে তৃণমূল আশ্রিত দাদা–বাবার হাতে নৃশংসভাবে খুন হলেন নিজের ভাই, বিজেপি বুথ সভাপতি। জনসমক্ষে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে এবং পরে আগুনে পুড়িয়ে খুনের এই ঘটনা রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। অন্যদিকে, বেলঘড়িয়ায় মদ্যপদের হাতে রাস্তায় নির্মমভাবে মারধর করা হল এক প্রতিবাদী শিক্ষককে। সোনারপুরে তৃণমূল নেতার লোভ-লালসার শিকার হয়েছেন এক গরিব মহিলা। ধারাবাহিক এই সমস্ত ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। বিরোধীদের অভিযোগ, শাসক দলের অনুপ্রেরণায় এবং প্রশ্রয়ে আজ রাজ্যজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পিশাচেরা।”

ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বারুইপুরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গ্রামবাসীদের ক্ষোভ স্পষ্ট— তাঁরা দ্রুত সব অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও মূল ‘মাস্টারমাইন্ডরা’ অধরা থাকায় জনরোষ আরও বেড়েছে।

এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি রাজনৈতিক খুন নয়, বরং গোটা এলাকার আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ চিত্রও তুলে ধরছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *