মুর্শিদাবাদ পুলিশের বড় সাফল্য: সাইবার প্রতারণার ৪০ লক্ষ টাকা ফেরত পেলেন ক্ষতিগ্রস্তরা

বহরমপুর, ৮ আগস্ট ২০২৫:
সাইবার প্রতারণার বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের চলমান অভিযানে এসেছে এক বড় সাফল্য। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাইবার জালিয়াতির শিকার হওয়া মোট ৪৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি আজ ফিরে পেলেন তাদের খোওয়া মোট ৪০ লক্ষ ২৮৭৭৪ টাকা। শুক্রবার বহরমপুরের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে এই টাকা তুলে দেন পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত দুই মাসে— অর্থাৎ জুন ও জুলাই মাসে— সাইবার ক্রাইম পুলিশে মোট ৩৪টি এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগগুলির ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে সাইবার টিম এই বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ড, বীরভূম ও বর্ধমান থেকে মূল হোতাসহ মোট ১৪-১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ জানান, “আমাদের সাইবার টিমকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। টিমে এমন পুলিশকর্মীদের যুক্ত করা হয়েছে যাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান অত্যন্ত উন্নত— যেমন বি.টেক ও এমসিএ ডিগ্রিধারী টেকনিশিয়ানরা।” তিনি আরও আশাবাদী ভঙ্গিতে বলেন, “আগস্ট মাসের মধ্যেই উদ্ধার হওয়া টাকার অঙ্ক ১ কোটি ছুঁতে পারে।”

ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকে পুলিশের এই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বহরমপুরের পূজা বেঙ্গানি জানান, ২০২৪ সালের এপ্রিলে তার প্রায় ৭.৫ লক্ষ টাকা খোওয়া গিয়েছিল, যার মধ্যে ১.২০ লক্ষ টাকা তিনি ফেরত পেয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, সাইবার প্রতারণার শিকার হলে দেরি না করে দ্রুত অভিযোগ জানানোর।

সাইবার অপরাধ থেকে রক্ষা পেতে পুলিশ সুপার জেলার মানুষকে সতর্ক করে বলেন— “ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিদ্যুতের বিল বা অন্য কোনো জরুরি সেবার নামে প্রাপ্ত লিঙ্কে ক্লিক করবেন না। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে আর্থিক তথ্য শেয়ার করবেন না। কোনো অভিযোগ থাকলে দ্রুত স্থানীয় সাইবার থানায় জানান। এক ঘণ্টার মধ্যে জানালে টাকা ব্লক হওয়ার ৯০ শতাংশ সম্ভাবনা থাকে।” একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোকেও তিনি প্রতারণা রোধে সজাগ থাকার অনুরোধ জানান।

মুর্শিদাবাদ পুলিশের এই উদ্যোগ প্রমাণ করল, সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে এবং প্রযুক্তি-নির্ভর তদন্তে মনোযোগ দিলে সাইবার প্রতারণার ক্ষতি অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সতর্কতা এই লড়াইয়ে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রতিরোধ সবসময় প্রতিকার থেকে উত্তম।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *