‘বিগ গ্রিন দুর্গা’র ডিজিটাল অবতার: পরিবেশবান্ধব দুর্গাপূজার বার্তা নিয়ে হাজির বিগ এফএম

কলকাতা: আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা নিয়ে নতুন রূপে ফিরে এসেছে বিগ এফএম-এর বহু প্রতীক্ষিত উদ্যোগ বিগ গ্রিন দুর্গা। গত ২৯শে আগস্ট, ২০২৫ তারিখে কলকাতার প্রাইড প্লাজায় এক জমকালো সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযানের ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইশা সাহা, যিনি এই অভিনব উদ্যোগের উদ্বোধন করে পরিবেশ এবং ভক্তির এই অনন্য মিশ্রণকে সমর্থন জানিয়েছেন।

ডিজিটাল দুর্গার অভিনবত্ব:

এই বছরের পূজার মূল আকর্ষণ একটি থ্রি-ডি হলোগ্রাফিক দুর্গা প্রতিমা। এই প্রথমবার শহরে এমন একটি পরিবেশবান্ধব প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কোনো মাটি, কার্বন বা বিসর্জনের প্রয়োজন হবে না। এই ডিজিটাল প্রতিমাটি দুর্গাপূজার ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে একটি সুস্থ ও সবুজ ভবিষ্যতের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

বিগ এফএম-এর এই ক্যাম্পেইনটি শুধুমাত্র ডিজিটাল প্রতিমায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি সমাজের বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতেও কাজ করবে। বিগ এফএম-এর আরজে-রা (RJ) ৫০টিরও বেশি আরডব্লিউএ (RWAs), কলেজ এবং পাড়ায় গিয়ে ভক্তদের সঙ্গে মিশে পরিবেশবান্ধব চর্চাগুলো তুলে ধরবেন। একটি জনপ্রিয় মলে পাঁচ দিনব্যাপী একটি বিশেষ অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হবে, যেখানে দর্শকরা আরজে-দের সঙ্গে সরাসরি interact করতে পারবেন।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিগ শক্তি অ্যাওয়ার্ডস-এরও সূচনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পরিবেশগত স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে কাজ করা মহিলা উদ্যোক্তাদের সম্মান জানানো হবে। এই নারীরা মা দুর্গার একেকটি ‘অস্ত্র’-এর প্রতিনিধিত্ব করবেন, যা তাদের দৃঢ়তা এবং দায়িত্বের গল্প তুলে ধরবে।

সৌরশক্তিচালিত মণ্ডপ ও রেডিও স্টুডিও:

ক্যাম্পেইনের অন্যতম আকর্ষণ হলো বিগ স্টুডিও @মণ্ডপ, যা সম্পূর্ণ সৌরশক্তি দ্বারা চালিত একটি স্টুডিও। এখানে কলকাতার জনপ্রিয় আরজে-রা লাইভ অনুষ্ঠান করবেন এবং তারকাদের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি মণ্ডপ থেকে ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত হবেন।

বিগ এফএম-এর সিইও সুনীল কুমারান এই প্রসঙ্গে বলেন, “দুর্গাপূজা যেমন ভক্তির উৎসব, তেমনই এটি দায়িত্ববোধেরও উৎসব। ‘বিগ গ্রিন দুর্গা’র মাধ্যমে আমরা মা দুর্গাকে সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব উপায়ে সম্মান জানাতে চাই।”

অভিনেত্রী ইশা সাহা এই বিশেষ প্রকল্পের অংশ হিসেবে বলেন, “গ্রিন দুর্গা নামটি শুনলেই মনে হয় এটি বুঝি সবুজ কিছু একটা হবে, হয়তো গাছপালা দিয়ে তৈরি বা সবুজ রঙের কোনো প্রতিমা। ইকো-ফ্রেন্ডলি হবে, এটা সবাই বুঝতে পারে। কিন্তু এই ধারণাটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমি যখন এই কনসেপ্টটা দেখেছি, তখন মনে হয়েছে এটা একেবারেই নতুন। এখানে তথাকথিত কোনো প্রতিমা নেই, আছে শুধু ‘ভ্যানিশ ঠাকুর’।

এই ধারণাটি খুবই আকর্ষণীয়। ‘ভ্যানিশ ঠাকুর’ মানে হলো, প্রতিমা আছে, কিন্তু সেটা আমাদের দেখা প্রচলিত প্রতিমার মতো নয়। এটি একটি থ্রি-ডি হলোগ্রাফিক প্রজেকশন, যাকে প্রতিমা হিসেবে ধরে নিয়েই পূজা করা হচ্ছে। এতে ভক্তি ও শ্রদ্ধার কোনো ঘাটতি হচ্ছে না। আসল বিষয় তো ভক্তি, আর সেটাই এখানে বজায় থাকছে। একইসঙ্গে, পরিবেশকেও সাহায্য করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় দিক হলো, এটি পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বাড়ানোর জন্য একটি দারুণ প্রচেষ্টা। এটি দেখে মনে হচ্ছে আমরা যেন টাইম ট্র্যাভেল করে ভবিষ্যতে চলে এসেছি। একটি স্টুডিওর মধ্যে সোলার এনার্জি দিয়ে পুরো প্রজেক্টটি চালানো হচ্ছে, যা সত্যিই খুব আলাদা। এর ফলে মাটি বা অন্যান্য উপাদান, যা বিসর্জনের পর পরিবেশে থেকে যায়, সেগুলো ব্যবহারের কোনো প্রয়োজনই থাকছে না।

আমি মনে করি, এই ধরনের একটি ভিন্নধর্মী ধারণা যদি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এবং তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো যায়, তবে তা আমাদের এবং আমাদের ভবিষ্যতের জন্য খুবই ভালো হবে।”

বিগ গ্রিন দুর্গা উদ্যোগের মাধ্যমে বিগ এফএম আবারও প্রমাণ করলো যে, উৎসব উদযাপন উদ্ভাবনী এবং পরিবেশ সচেতন হতে পারে। এটি ভক্তিকে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্মিলিত আন্দোলনে রূপান্তরিত করার একটি দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *