নয়াদিল্লি, ১৪ই আগস্ট — বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে আটক ও ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর অভিযোগ ঘিরে দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলায় আজ সুপ্রিম কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি শুনে অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেছে এবং একাধিক রাজ্য সরকারের কাছ থেকে বিস্তারিত জবাব তলব করেছে।
এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্র্যান্ট ওয়েলফেয়ার বোর্ড। মামলার পক্ষের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ আদালতে জানান, দিল্লি, হরিয়ানা, ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, বিহার, উত্তর প্রদেশ, ছত্তিশগড়সহ একাধিক রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের শুধুমাত্র বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণে আটক করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের একটি পুরনো সার্কুলারের অপব্যবহার করা হচ্ছে, যা সরাসরি সংবিধানের ১৪ (সমতার অধিকার), ১৯ (বাক্স্বাধীনতা) এবং ২১ (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) ধারার পরিপন্থী। ভূষণের দাবি, এই পদক্ষেপে নিরীহ পরিযায়ী শ্রমিকরা চরম মানসিক ও সামাজিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
শুনানির সময় বেঞ্চ অনুপ্রবেশ-সংক্রান্ত জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশ্ন তোলে —
“যদি সত্যিই কেউ অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে থাকে, তাহলে কী হবে? তাদের আটক না করলে তারা ভিড়ে মিশে যাবে, যা আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ।”
বিচারপতিরা স্পষ্ট করে দেন, যেকোনো রাজ্যেরই পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিচয় যাচাই ও জাতীয়তা নিশ্চিত করার অধিকার রয়েছে। আদালতের মতে, এই পর্যায়ে কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিলে বৈধ আইনি প্রক্রিয়া, বিশেষ করে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত ও ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া, ব্যাহত হতে পারে।
বেঞ্চ ওড়িশা, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, বিহার, উত্তর প্রদেশ, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গ— এই নয়টি রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামা চেয়েছে, যাতে তারা বাংলাভাষী শ্রমিকদের আটক ও ডিটেনশন ক্যাম্প সংক্রান্ত অভিযোগে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।
আদালত জানিয়েছে, রাজ্যগুলির জবাব হাতে পাওয়ার পরেই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ বা সম্ভাব্য নির্দেশ দেওয়া হবে। ততদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির অভিযান ও যাচাই প্রক্রিয়া চালু থাকবে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারণ করা হবে রাজ্যগুলির হলফনামা জমা দেওয়ার পর।