নিউজ ফ্রন্ট, কলকাতা | ২৫ জুলাই, ২০২৫
কলকাতায় ইন্ডিয়ান চেম্বার অফ কমার্স আয়োজিত ‘বেঙ্গল রাইস কনক্লেভ’-এ রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য ঘিরে চাল শিল্পে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘কৃষক বন্ধু প্রকল্প’-এর মাধ্যমে বাংলার কৃষকদের আয় সুনিশ্চিত হওয়ায় কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
তবে একইসঙ্গে তিনি জানান, চাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবেই খুচরো বাজারে দাম বাড়ছে। রাজ্য সরকার এই অবস্থার মোকাবিলায় ‘সুফল বাংলা’ স্টলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ন্যায্য মূল্যে চাল পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। খুব শীঘ্রই কম দামে চাল বিক্রির ব্যবস্থাও করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে যখন চাল রপ্তানি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তখন কনক্লেভে উঠে আসে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা। বর্তমানে বিশ্বের মোট চাল রপ্তানির ৩০ শতাংশই হচ্ছে ভারত থেকে। একইসঙ্গে দেশে চাল উৎপাদনও বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের প্রাক্তন উপ অধিকর্তা স্বপন দত্ত, কৃষিবিজ্ঞানী বিশ্বজিত মন্ডল, সৈকত গোয়েঙ্কা, প্রবীর আগরওয়াল-সহ একাধিক বিশেষজ্ঞ ও শিল্পপ্রতিনিধি। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত কৃষক ও প্রতিনিধিরা জানান, ধান উৎপাদন বাড়লেও চাষিরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। লাভ নিচ্ছেন রাইস মিল মালিক ও মিডলম্যানরা।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বর্তমান আবহাওয়া ধান চাষের পক্ষে যথেষ্ট উপযোগী। তবে চাষের সুবিধা ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও ন্যায্য বাজার ব্যবস্থার অভাবে কৃষকরা এখনও বিপদে পড়ছেন।
এই কনক্লেভ থেকে পরিষ্কার, একদিকে যেমন রাজ্য সরকার কৃষকদের আয় ও বাজার নিয়ন্ত্রণে আশাবাদী, অন্যদিকে চাষিদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরছে আরও সুসংবদ্ধ ও ন্যায্য নীতির প্রয়োজনীয়তা।
এই কনক্লেভ ধান চাষ এবং চালের বাজার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও বিতর্ককে সামনে এনেছে। একদিকে যেমন ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের সাফল্য দাবি করা হচ্ছে, তেমনই মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং কৃষকদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্য সরকারের ‘সুফল বাংলা’ উদ্যোগ চালের দাম নিয়ন্ত্রণে কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।