শিল্পের ‘কবরখানা’ বাংলা, আদতে বিনিয়োগই নেই!

বিজিবিএস নিয়ে ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের দাবিতে সরব শুভেন্দু-শমীক

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা:

পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানাল ভারতীয় জনতা পার্টি। বুধবার কলকাতায় এক যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে পশ্চিমবঙ্গ এখন শিল্পের ‘কবরখানা’য় পরিণত হয়েছে। ঘটা করে প্রতি বছর বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন (BGBS) করা হলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের।

বিজেপি নেতাদের দাবি, গত কয়েক বছরে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার যে অবনতি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিল্পে। শমীক ভট্টাচার্য তথ্য তুলে ধরে জানান, যেখানে মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের (FDI) হার ৩৬.৬ শতাংশ, সেখানে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “যে সমস্ত শিল্পপতিরা বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বাংলার বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশের প্রশংসা করেন, তাঁরাই অনুষ্ঠান শেষে অন্য রাজ্যে গিয়ে পুঁজি বিনিয়োগ করছেন। অর্থাৎ বাংলার প্রতি শিল্পপতিদের কোনো প্রকৃত ভরসা নেই।”

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি রাজ্য সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২০১৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর মন্ত্রিপরিষদ যতগুলি মউ (Memorandum of Understanding) স্বাক্ষর করেছে, তার ভগ্নাংশও বাস্তবে বাস্তবায়িত হয়নি। শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, “যদি এত লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগের প্রস্তাব এসে থাকে, তবে রাজ্যে ক’টি নতুন বড় কারখানা চালু হয়েছে? কতজন যুবক-যুবতী কর্মসংস্থান পেয়েছে? সরকার কেন এই তথ্য গোপন করছে?”

রাজ্য সরকারের শিল্প নীতিকে ‘শুধুমাত্র প্রচার সর্বস্ব’ বলে অভিহিত করে বিজেপি নেতারা দাবি তুলেছেন সরকার অবিলম্বে গত কয়েক বছরের মউ (MoU) এবং বাস্তবে হওয়া বিনিয়োগের খতিয়ান দিয়ে একটি ‘শ্বেতপত্র’ (White Paper) প্রকাশ করুক। জেলাভিত্তিক কতগুলি নতুন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠেছে, তার স্পষ্ট তালিকা দেওয়া হোক।

শুভেন্দু অধিকারীর মতে, প্রতি বছর বিজিবিএস-এর নামে হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে। কিন্তু শিল্পের খরা কাটছে না, যার ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত যুবক ভিন রাজ্যে কাজ খুঁজতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কেবলমাত্র চটকদার প্রচার বা উৎসবের মোড়কে সাজানো বাণিজ্য সম্মেলন দিয়ে বাংলার শিল্পায়ন সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত পরিকাঠামো এবং দুর্নীতমুক্ত প্রশাসন।

বিজেপির এই অভিযোগের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের এই পরিসংখ্যানগত অভিযোগের পাল্টা হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস বা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কী সাফাই দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *