নিউজ ফ্রন্ট, বেলডাঙ্গা, মুর্শিদাবাদ – বন্যপ্রাণী চোরাচালানের বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পেয়েছে বেলডাঙ্গা থানা পুলিশ। আজ পরিচালিত এক অভিযানে চার সোনালি বাঁদর (গোল্ডেন ল্যাঙ্গুর) জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেলডাঙ্গা থানার পুলিশি দল ভাবতা রেল গেটের কাছে এই সফল অভিযান চালায়।প্রাথমিক ভাবে পুলিশ ২টি সন্দেহ ভাজন গাড়ি দাড় করায়। তারপরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় ২ টি মুখমন্ধ বস্তা । সেই বস্তার ভিতরেই ছিল ৪টি গোল্ডেন মাঙ্কি।
এই ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হল মিঠু দাস (৩৩) , টিটু দাস (২৯), সামিল হোসেন বিশ্বাস (৩৯) , রফিকুল মন্ডল (২৯), হাসিবুল মন্ডল (২৫) এবং বিশ্বজিৎ বাগ (২৩ )। অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই নদিয়া জেলার চাপড়া ও ভীমপুর থানার এলাকার বাসিন্দা।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, অভিযুক্তরা উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ জেলার ফতেপুকুর থেকে এই সোনালি বাঁদর গুলো নদিয়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিবহন করছিল।
বেলডাঙার এসডিপিও উত্তম গড়াই বলেন “ কালকে রাতেই আমারা খবর পাই তারপরে আমরা ২ টো গাড়ি আটক করি এবং উদ্ধার করি ৪ টে গোল্ডেন মাঙ্কি। মুলত মিঠু দাস ছিল এই মূল চক্রের পাণ্ডা। বাকিরা ওকে সাহায্য করছিল। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক চোরাচালান কারীরা যুক্ত আছে। এই গোল্ডেন মাঙ্কির বাজার দর প্রায় কোটি টাকার উপরে।“
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেলডাঙ্গা থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের আজই আদালতে হাজির করা হবে। আরও তদন্তের সুবিধার্থে মিঠু দাসের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
উদ্ধারকৃত সোনালি বাঁদর গুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য বন বিভাগের বিএমপি ইউনিটকে অবহিত করা হয়েছে। তারা এই বিরল প্রাণীগুলোর হেফাজত নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবেন।
সোনালি বাঁদর একটি অত্যন্ত বিরল ও সংরক্ষিত প্রজাতির প্রাণী। এই ধরনের বন্যপ্রাণী পাচার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আজকের এই সফল অভিযান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে পুলিশের অঙ্গীকারের প্রমাণ।